পিরোজপুরে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় এক ব্যবসায়ীকে ফাঁদে ফেলে মারধর, নগ্ন ভিডিও ধারণ ও তা দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে এক নারীসহ তিনজন গ্রেপ্তার; পরবর্তী সময়ে ছাত্রদল নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
টুইট ডেস্ক: পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় এক ব্যবসায়ীকে কৌশলে ফাঁদে ফেলে মারধর, নগ্ন ভিডিও ধারণ এবং সেই ভিডিও ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ভাণ্ডারিয়া পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সজীব চাপরাশি রয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করেছে পিরোজপুর জেলা ছাত্রদল।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে ভাণ্ডারিয়া বাজারের রিজার্ভ পুকুরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার অন্য ব্যক্তিরা হলেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলার উত্তর-পূর্ব ভাণ্ডারিয়া এলাকার মো. ফখরুল ইসলাম মিলন চাপরাশির ছেলে সজীব চাপরাশি (২৫), আমজাদ হোসেনের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান রনি (৩৫) এবং এক নারী।
যেভাবে ফাঁদে ফেলার অভিযোগ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভাণ্ডারিয়া বাজারসংলগ্ন রিজার্ভ পুকুরপাড় এলাকায় বৈদ্যুতিক সামগ্রীর ব্যবসায়ী মানবেন্দ্র রায় মুন্নাকে (৩৪) কৌশলে ফাঁদে ফেলার অভিযোগ ওঠে। পরে তাঁকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নগ্ন ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ভিডিও ব্যবহার করে ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার
এদিকে, ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সজীব চাপরাশিকে বহিষ্কার করে পিরোজপুর জেলা ছাত্রদল। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান শাহীন এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক খালিদ হাসানের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সজীবকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে তাঁর সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার বলেন, স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সজীবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






