পানির কাজে অবহেলা নয়, ত্বক রক্ষায় জরুরি সতর্কতা

বারবার ধোয়ামোছায় শুষ্কতা, সংক্রমণ ও একজিমার ঝুঁকি,বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান।

টুইট ডেস্ক: ঘরের নিয়মিত ধোয়ামোছা কিংবা পানির কাজ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হলেও, এতে ত্বকের ওপর পড়ছে নীরব কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব।

বিশেষ করে গৃহস্থালি কাজে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে হাতের শুষ্কতা, ফাটা ত্বক, সংক্রমণ ও অ্যালার্জিজনিত সমস্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা দ্রুত নষ্ট করে দেয়।

অনেকেই বাসন পরিষ্কারে গরম পানি ব্যবহার করলেও কুসুম গরম পানি তুলনামূলক নিরাপদ। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার ত্বকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

এর পরিবর্তে মৃদু ও আর্দ্রতাযুক্ত সাবান ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে অ্যান্টিসেপটিক বা জীবাণুনাশক তরল: যেমন ডেটল বা স্যাভলন,নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের ক্ষতি বাড়ে।

এসব পদার্থ সরাসরি হাতে লাগানো থেকে বিরত থাকা এবং প্রয়োজনে গ্লাভস ব্যবহার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ধোয়ামোছার কাজ শেষে হাত পরিষ্কারের সময় অতিরিক্ত ঘষামাজা না করে মৃদু হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি কাজের সময় কিচেন গ্লাভস ব্যবহার করলে ত্বক অনেকাংশে সুরক্ষিত থাকে।

কাজ শেষে হাত সামান্য ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারকে সবচেয়ে কার্যকর বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা।

লোশনের তুলনায় ক্রিম বা অয়েন্টমেন্ট ধরনের ময়েশ্চারাইজার বেশি উপকারী, কারণ এগুলো ত্বকের আর্দ্রতা দীর্ঘসময় ধরে রাখতে সহায়তা করে।

বিশেষ করে পেট্রোলিয়াম জেলি, গ্লিসারিন, খনিজ তেল ও সিরামাইডসমৃদ্ধ পণ্য ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া যায়।
রাতে ঘুমানোর আগে হাত পরিষ্কার করে পুরু

ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে হাতমোজা পরে নেওয়ার অভ্যাস ত্বকের শুষ্কতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে বলেও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলেছেন, বারবার সাবান-পানির সংস্পর্শে ত্বক ফেটে গেলে সেখানে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

আঙুলের ফাঁকে ছত্রাক সংক্রমণ, লালচে ভাব, ছোট ফুসকুড়ি কিংবা একজিমা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

বিশেষ করে ডায়াবেটিসসহ দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এসব সমস্যা গুরুতর আকার নিতে পারে।

গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ, ঢাকার চর্মরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. আসিফুজ্জামান বলেন, “সচেতনতা ও সঠিক যত্নই পারে ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে।

দৈনন্দিন কাজের মাঝেই ছোট ছোট অভ্যাস পরিবর্তন বড় ধরনের সমস্যা প্রতিরোধ করতে সক্ষম।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরের কাজের পাশাপাশি ত্বকের যত্নে সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।