আইইউআই চিকিৎসা: সহজ পথে মাতৃত্বের আশা

বন্ধ্যত্ব নিরসনে কার্যকর বিকল্প, তবে সাফল্য নির্ভর করে সঠিক রোগী নির্বাচনের ওপর।
টুইট ডেস্ক: বন্ধ্যত্ব চিকিৎসায় তুলনামূলক সহজ ও স্বল্পব্যয়ী পদ্ধতি হিসেবে ইনট্রা-ইউটেরিন ইনসেমিনেশন (আইইউআই) ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসায় ব্যর্থ হলে এবং উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতিতে যাওয়ার আগে আইইউআই হতে পারে একটি কার্যকর মধ্যবর্তী সমাধান।
চিকিৎসকদের মতে, আইইউআই পদ্ধতিতে পুরুষের শুক্রাণু বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরিশোধন করে সরাসরি নারীর জরায়ুতে প্রবেশ করানো হয়।
এতে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার তুলনায় গর্ভধারণের সম্ভাবনা কিছুটা বৃদ্ধি পায়। তবে এ পদ্ধতির সাফল্য হার সাধারণত ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিকবার প্রয়োগ করতে হয়।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আইইউআই সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর নয়। অন্তত একটি ফেলোপিয়ান নালি খোলা থাকা, ডিম্বাণুর পরিপক্বতা এবং শুক্রাণুর গ্রহণযোগ্য মান,এসব শর্ত পূরণ না হলে এ চিকিৎসার সাফল্য কমে যায়।
বিশেষ করে যেসব দম্পতির দীর্ঘদিন ধরে সন্তান না হওয়ার সমস্যা রয়েছে বা বয়সজনিত কারণে সময় সীমিত, তাদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে।
এ ছাড়া প্রবাসী স্বামী বা কর্মসূত্রে আলাদা থাকা দম্পতিদের জন্যও আইইউআই একটি বাস্তবসম্মত সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ, শুক্রাণু সংরক্ষণ করে নির্দিষ্ট সময়ে চিকিৎসা সম্পন্ন করা সম্ভব।
চিকিৎসকেরা আরও জানান, প্রাথমিক পর্যায়ের জরায়ুজনিত সমস্যা, হালকা মাত্রার শুক্রাণু ত্রুটি কিংবা সহবাসজনিত অসুবিধা থাকলেও আইইউআই কার্যকর হতে পারে। তবে গুরুতর জটিলতার ক্ষেত্রে উন্নত পদ্ধতি: যেমন দেহের বাইরে নিষেক পদ্ধতি গ্রহণ করাই অধিক উপযোগী।
সব মিলিয়ে, আইইউআই বন্ধ্যত্ব চিকিৎসায় একটি সম্ভাবনাময় ধাপ হলেও রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন করে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।






