মেধাতালিকায় ২৮তম, তবু গেজেটে নেই মনিরের

চার বছরের পরিশ্রম ও সব ধাপ পেরিয়েও নিয়োগ থেকে বাদ পড়ায় হতাশ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী; যাচাইয়ের নামে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে দ্রুত অন্তর্ভুক্তির দাবি
টুইট প্রতিবেদক: ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে মৎস্য ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন মনিরুজ্জামান। মেধাতালিকায় তাঁর অবস্থান ছিল ২৮তম। কিন্তু সব ধাপ পেরিয়েও সদ্য প্রকাশিত নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে নিজের নাম না পেয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী।
দীর্ঘ চার বছরের প্রস্তুতি, প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও কেন তাঁকে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন থেকে বাদ দেওয়া হলো, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তিনি। নিজের হতাশা প্রকাশ করতে গিয়ে মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ক্রসফায়ারে দিয়ে দেন, রাষ্ট্রের বোঝা হয়ে থাকতে চাই না।’
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন মনিরুজ্জামান। ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে মৎস্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
মনিরুজ্জামান জানান, তাঁকে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কখনো সম্পৃক্ত ছিলেন না বলেও দাবি করেন তিনি। জুলাইয়ের আন্দোলনের শুরু থেকেই সামনের সারিতে থেকে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানান এই তরুণ।
তাঁর ভাষ্য, যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই বৈষম্যেরই শিকার হয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের পর এমন পরিণতি মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে তাঁর জন্য।
যাচাইয়ের নামে অবিচারের অভিযোগ
মনিরুজ্জামানের অভিযোগ, কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকা কিংবা কোনো মামলার মুখোমুখি না হয়েও যাচাইপ্রক্রিয়ার কারণ দেখিয়ে তাঁকে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এভাবে আর কতজন প্রার্থী বঞ্চনার শিকার হবেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
তিনি বলেন, একটি বিসিএসের জন্য একজন প্রার্থীকে বছরের পর বছর পরিশ্রম করতে হয়। প্রাথমিক বাছাই, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করার পর কাউকে বাদ দেওয়া অমানবিক। বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা নিয়ে যে আন্দোলন হয়েছে, সেই আন্দোলনের পরও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বৈষম্যের শিকার হওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
মনিরুজ্জামান আরও জানান, বৃদ্ধ বাবার সামনে কীভাবে দাঁড়াবেন, তা ভেবে পাচ্ছেন না তিনি। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় পরিবার ও সমাজের সামনে নিজেকে অসহায় মনে হচ্ছে তাঁর।
এ পরিস্থিতিতে ৪৫তম বিসিএসের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন থেকে বাদ পড়া সব প্রার্থীকে দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
৪৫তম বিসিএসে বাদ পড়েছেন ১০৫ জন
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের ১৯ মে প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
দীর্ঘ নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর বিভিন্ন ক্যাডারে মোট ১ হাজার ৮০৭ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে পিএসসি।
তবে চলতি বছরের ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে স্থান পেয়েছেন ১ হাজার ৭০২ জন। ফলে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে ১০৫ জন প্রার্থী প্রজ্ঞাপনের বাইরে থেকে গেছেন।
কেন এসব প্রার্থীকে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা ও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের দাবি উঠেছে।
মেধা, যোগ্যতা ও দীর্ঘ প্রস্তুতির পরও নিয়োগের শেষ ধাপে বাদ পড়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। মনিরুজ্জামানের ঘটনা সরকারি নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রার্থীদের প্রতি ন্যায়সংগত আচরণ নিশ্চিত করার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে।






