বাংলাদেশ অলিম্পিক সংস্থায় পদত্যাগের হিড়িক

দুই দিনে ছয়জনের পদত্যাগ, আজ সরে দাঁড়ালেন সহসভাপতি নাঈম আশফাক ও সদস্য ফারহাদ জেসমিন লিটি; ফেডারেশনগুলোর কাউন্সিলরশিপ হালনাগাদে চিঠি।

টুইট ডেস্ক: বাংলাদেশ অলিম্পিক সংস্থায় পদত্যাগের ধারাবাহিকতায় নতুন করে সরে দাঁড়িয়েছেন সংস্থাটির সহসভাপতি মেজর জেনারেল নাঈম আশফাক চৌধুরী (অব.) ও নির্বাহী কমিটির সদস্য ফারহাদ জেসমিন লিটি। গত দুই দিনে ছয়জনের পদত্যাগের পর বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তাঁদের পদত্যাগের ঘটনা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

সংস্থাটির নির্বাহী কমিটির একাধিক সদস্যের পদত্যাগের ফলে নেতৃত্ব ও প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের নতুন কমিটির সঙ্গে অলিম্পিক সংস্থার প্রতিনিধিত্বের অসংগতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

নাঈম আশফাক চৌধুরী বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি। গত ১৮ জুলাই গঠিত নতুন অন্তর্বর্তী কমিটিতে তিনি স্থান পাননি। তবে বাংলাদেশ অলিম্পিক সংস্থার নির্বাচিত সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে সহ-উপাচার্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন। নতুন দায়িত্বের কারণে অলিম্পিক সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া ও কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

অন্যদিকে, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব ছেড়েছেন নির্বাহী কমিটির সদস্য ফারহাদ জেসমিন লিটি।

পদত্যাগ নিয়ে বৈঠক, পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্বাহী সভায়

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ অলিম্পিক সংস্থার ভবনে মহাসচিবের কক্ষে নির্বাহী কমিটির দশজনের বেশি সদস্য বৈঠকে বসেন। দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাঁরা সংস্থার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও পদত্যাগের পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে হাসানুজ্জামান খান বাবলু ছাড়া অন্য কেউ বর্তমানে কোনো ক্রীড়া ফেডারেশনের কমিটিতে নেই বলে জানা গেছে।

সংস্থাটির মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা জানান, গত দুই দিনে ছয়জনের পদত্যাগের পর সবার মধ্যে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা করে করণীয় সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, পরবর্তী নির্বাহী কমিটির সভায় পদত্যাগপত্রগুলো উপস্থাপন করা হবে। সেগুলো গৃহীত হলে পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটিকে জানানো হবে। সংস্থাটির পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী।

ফেডারেশনগুলোতে কাউন্সিলরশিপ হালনাগাদের উদ্যোগ

বাংলাদেশ অলিম্পিক সংস্থার বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি সামনে এসেছে। গত ১৮ জুলাই ২৮টি ফেডারেশনের কমিটিতে পরিবর্তন আনা হয়। নতুন কমিটির অনেক সদস্য অলিম্পিক সংস্থার নির্বাহী কমিটিতে না থাকায় প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ফেডারেশনগুলোর কাউন্সিলরশিপ হালনাগাদ করতে গত বুধবার চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক সংস্থা। সংস্থাটির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবিএম শেফাউল কবীরের স্বাক্ষরে পাঠানো চিঠি বিভিন্ন ফেডারেশন পেয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে এ বিষয়ে মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা জানিয়েছেন, তিনি চিঠি পাঠানোর বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন।

নতুন কমিটি ঘিরে পুরোনো বিতর্ক

বাংলাদেশ অলিম্পিক সংস্থার বর্তমান নির্বাহী কমিটি গঠিত হয় ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর। চার বছর মেয়াদি ৩৭ সদস্যের এই কমিটির এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই আটজনের পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাহী কমিটির পরবর্তী সভার আগে পদত্যাগের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।

নতুন কমিটি গঠনের শুরু থেকেই মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা ও সহসভাপতি মেজর ইমরোজকে ঘিরে সমালোচনা ছিল। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন পুনর্গঠনের জন্য গঠিত অনুসন্ধান কমিটিতে তাঁরা দায়িত্ব পালন করেন। ওই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন জোবায়েদুর রহমান রানা।

ফুটবল ও ক্রিকেট ছাড়া অন্যান্য ফেডারেশনের পুনর্গঠনে অনুসন্ধান কমিটির ভূমিকা এবং কমিটির মনোনীত ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ অলিম্পিক সংস্থার কাউন্সিলর হওয়ায় স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সাবেক পরিচালক ক্রীড়া আমিনুল এহসান অলিম্পিক সংস্থার নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠিও দিয়েছিলেন।

সব মিলিয়ে ধারাবাহিক পদত্যাগ, ফেডারেশনগুলোর প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন এবং পুরোনো বিতর্ক, এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে বাংলাদেশ অলিম্পিক সংস্থা এখন অনিশ্চয়তার মুখে। পরবর্তী নির্বাহী কমিটির সভা এবং আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির নির্দেশনার ওপরই পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে।