আবু সাঈদ হত্যা: বেরোবির ১১ শিক্ষক-কর্মচারী স্থায়ী বহিষ্কার

দণ্ডিত তিন শিক্ষকসহ বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন কর্মকর্তা, কর্মচারী ও নিরাপত্তাকর্মী।
টুইট প্রতিবেদক: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দণ্ডিত বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষকসহ ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বুধবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা বিভাগের সহকারী পরিচালক এহতেরামুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।
বহিষ্কৃত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান ও হাফিজুর রহমান, সেকশন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান পলাশ, অফিস সহকারী ও কম্পিউটার পরিচালনাকারী মাহবুবার রহমান ওরফে বাবু, কর্মচারী মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল ও এ কে এম আমির হোসেন, নিরাপত্তাকর্মী নুর আলম মিয়া এবং প্রক্টর কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ।
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় গত ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় দেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের ওই মামলায় ৩০ আসামির মধ্যে দুজনকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অন্য ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
ওই ঘটনায় আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। তাঁর মৃত্যু পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের অন্যতম আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয় এবং দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দণ্ডিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলো।





