কুমিল্লায় রতনের ফোনালাপ প্রকাশ্যে

মিছিলে উপস্থিতি ও সংবাদ নিয়ে ছাত্রদল নেতার সঙ্গে কথোপকথন, বিষয়টি তদন্তে পুলিশ ও সংগঠন।
টুইট প্রতিবেদক: কুমিল্লায় আলোচিত কিশোর গ্যাং নেতা ইমরান হোসেন ওরফে রতনের একটি রাজনৈতিক মিছিলে উপস্থিতি নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এবার কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. মহসিনের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় দুই মিনিটের ওই ভিডিওতে মিছিলে রতনের উপস্থিতি এবং তাঁকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ বিষয়ে দুজনকে কথা বলতে শোনা যায়।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে রতনের মুখ দেখা যায়নি। লাউডস্পিকারে কথা বলার সময় পাশে থাকা একজনের মাধ্যমে কথোপকথনটি ধারণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছাত্রদল নেতা মহসিনের ভাষ্য, গত শনিবার ইমরান নামে একজন তাঁকে ফোন করে কথা বলেন। এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা মহানগর ও দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল এবং ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সেই মিছিলে মহসিনের পেছনে রতনকে দেখা যায়,এমন একটি ভিডিও ২৫ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিতর্ক শুরু হয়।
মহসিন পরে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছিলেন, রতনের সঙ্গে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই। বড় মিছিলে হাজারো মানুষের ভিড়ে রতন কীভাবে তাঁর পেছনে দাঁড়িয়েছেন, তা তিনি জানতেন না। এমনকি রতনকে আগে কখনো দেখেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে প্রকাশিত ফোনালাপে রতন মিছিলে যাওয়ার প্রসঙ্গে ‘রুবেল ভাইয়ের কর্মসূচি’র কথা উল্লেখ করেন। এ সময় মহসিন তাঁকে বলেন, গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা তাঁকে ফোন করে রতনকে চেনেন কি না এবং তাঁর মিছিলে রতন কেন ছিলেন,এসব জানতে চেয়েছেন।
ফোনালাপে মহসিন আরও বলেন, মিছিলে প্রায় এক হাজার মানুষ ছিলেন এবং তাঁর দায়িত্ব ছিল মিছিলের শৃঙ্খলা বজায় রাখা। সেখানে কে কিশোর গ্যাংয়ের নেতা বা কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে, তা তাঁর জানা ছিল না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে রতনের কথায় উঠে আসে, মিছিলে কোনো অস্ত্রের মহড়া হয়নি এবং তিনি কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। তিনি মহসিনের কাছে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করেন।
‘রুবেল ভাই’ কে
ফোনালাপে একাধিকবার উল্লেখ করা ‘রুবেল’ বলতে কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক সেলিম ওরফে রুবেলকে বোঝানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মহসিনের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে এবং তাঁরা একই এলাকার বাসিন্দা।
রুবেলের ভাষ্য, তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি বড় কর্মসূচিতে মহসিনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ওই কর্মসূচিতে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীদের অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল। তবে মিছিলে মহসিন কাদের সঙ্গে নিয়ে এসেছেন বা তাঁর সঙ্গে কারা ছিলেন, সে বিষয়ে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত দায় নেই বলে দাবি করেন রুবেল।
রুবেল আরও বলেন, তিনি কিশোর বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের দিয়ে রাজনীতি করান না। রতন কীভাবে বা কার সঙ্গে মিছিলে এসেছেন, সেটিও তিনি জানতেন না বলে দাবি করেন।
তদন্তের কথা ছাত্রদল ও পুলিশের
কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদুজ্জামান রানা জানিয়েছেন, কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিরুদ্ধে তাঁদের অবস্থান রয়েছে। প্রথম ভিডিওর পর নতুন ফোনালাপের ভিডিওটিও তাঁদের নজরে এসেছে। বিষয়টি যাচাই করে কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার জানিয়েছেন, ফোনালাপের ভিডিওটির বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
প্রকাশিত ফোনালাপটি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠলেও এতে উঠে আসা বক্তব্যের সত্যতা ও কথোপকথনের পূর্ণ প্রেক্ষাপট পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। ছাত্রদল ও পুলিশ উভয় পক্ষই বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে।






