ভোজ্যতেলের দাম আবারও বাড়ানোর প্রস্তাব

লিটারে ১০ টাকা বৃদ্ধির আবেদন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি

টুইট ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হার ও আমদানি ব্যয় বেড়েছে-এমন যুক্তি দেখিয়ে আবারও ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১০ টাকা বাড়ানোর আবেদন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রস্তাবের পর গত সপ্তাহে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে মন্ত্রণালয়। তবে ওই বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি এখনও পর্যালোচনায় রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আবারও আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত ৭ জুলাই পাঠানো আবেদনে বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেলের খুচরা মূল্য ১৯৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০৯ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১ হাজার ১৫ টাকা, খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৮৮ টাকা এবং খোলা পাম তেলের দাম ১৮৩ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল এক দফা ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

ব্যবসায়ীদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের উচ্চ বিনিময় হার এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলে অতিরিক্ত ১৮ থেকে ২০ টাকা ব্যয় হচ্ছে। বর্তমান দামে বিক্রি অব্যাহত থাকলে লোকসানের কারণে আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

তবে বাজার বিশ্লেষক ও ভোক্তা অধিকারকর্মীরা এই যুক্তির সঙ্গে একমত নন। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে দ্রুত মূল্য সমন্বয়ের দাবি তোলা হলেও দাম কমলে সেই সুবিধা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় না। ফলে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অজুহাতে ব্যবসায়ীরা বারবার দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য কমলেও দেশের বাজারে তার প্রতিফলন দেখা যায় না। তিনি বলেন, বন্যার কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে এমনিতেই চাপ বেড়েছে। এর মধ্যে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে।

তিনি আরও বলেন, বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারকে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।