নয়াদিল্লিতে নতুন হাইকমিশনার নিয়োগ নিয়ে জটিলতা, আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনের পর শামা ওবায়েদের সতর্ক বার্তা—দুই সরকারের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য না আসা পর্যন্ত সংবাদে আমল না দেওয়ার আহ্বান । অপেক্ষার আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর।
নিজস্ব প্রতিবেদক: নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত পরবর্তী হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়ামের নিয়োগে ভারত এখনো আনুষ্ঠানিক সম্মতি বা ‘অ্যাগ্রেমা’ দেয়নি বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে দুই দেশের সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে আমলে না নিতে বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে করা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখানে আমার একটাই বক্তব্য, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অথবা ভারত সরকারের কাছ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা স্টেটমেন্ট না আসা পর্যন্ত এসব খবরের আমল না দিতে আমি অনুরোধ করব এবং এ ধরনের সংবাদ না করার জন্যও অনুরোধ করব।”
এর আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট এক প্রতিবেদনে দাবি করে, ঢাকার প্রস্তাব পাওয়ার পর এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে আসাদ আলম সিয়ামকে নিয়োগের বিষয়ে ভারত এখনো সম্মতি দেয়নি। একই তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, বিভিন্ন দেশে নতুন হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূত নিয়োগের প্রক্রিয়া গত জুলাইয়ে শুরু করে বাংলাদেশ। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নয়া দিল্লিতে পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে আসাদ আলম সিয়ামকে পাঠানোর বিষয়ে এক মাসের বেশি সময় আগে ভারতের অনুমোদন চাওয়া হয়।
কূটনৈতিক রীতি অনুযায়ী, কোনো দেশে নতুন রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের ‘অ্যাগ্রেমা’ বা আনুষ্ঠানিক সম্মতি প্রয়োজন। ভারতের সেই সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত আসাদ আলম সিয়ামের নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া সম্ভব নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ। আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর নতুন দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ভারতের সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনারের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি আটকে থাকছে।
আসাদ আলম সিয়াম বর্তমানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে, ২০২৫ সালের জুনে এ পদে নিয়োগ পান। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের একজন অভিজ্ঞ ক্যারিয়ার কূটনীতিক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একজন।
আসাদ আলম সিয়ামকে দিল্লিতে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া এমন এক সময়ে আটকে থাকার খবর এসেছে, যখন বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়ে টানাপোড়েনের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হচ্ছে। দ্য প্রিন্ট–এর প্রতিবেদনে বিষয়টিকে দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপটের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
কূটনৈতিক নিয়োগের ক্ষেত্রে ভিয়েনা কনভেনশন অন ডিপ্লোম্যাটিক রিলেশনসের অনুচ্ছেদ ৪ অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র অন্য দেশে মিশনপ্রধান হিসেবে কাউকে নিয়োগের আগে গ্রহণকারী রাষ্ট্রের সম্মতি নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে গ্রহণকারী রাষ্ট্র প্রস্তাবিত ব্যক্তিকে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে তার কারণ ব্যাখ্যা করতে বাধ্য নয়। কূটনৈতিক রীতিতে ‘অ্যাগ্রেমা’ প্রক্রিয়াটি সাধারণত প্রকাশ্যে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয় না।
সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতের পক্ষ থেকে আসাদ আলম সিয়ামের নিয়োগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সম্মতি বা প্রত্যাখ্যানের কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও সরকারি পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য বা বক্তব্য না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রকাশিত খবরকে গুরুত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র: আমার দেশ অনলাইন (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬), দ্য প্রিন্ট (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬), এনডিটিভি, দ্য ডেইলি সান, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডসহ বিভিন্ন প্রতিবেদন।






