চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ‘পিচ্চি জাহিদ’ হত্যা: ১২ আসামি গ্রেপ্তার

আজাদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি। গাছ কাটার ভিডিও প্রকাশকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ; অবশিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত।
টুইট ডেস্ক: চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে জাহেদুল আলম (৩৩) ওরফে ‘পিচ্চি জাহিদ’কে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এজাহারনামীয় ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মো. আজাদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ আগস্ট রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সাতকানিয়া থানার পুরানগড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাজালিয়া-শীলঘাটা সড়কের ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ওই সময় জাহেদুল আলম ওরফে ‘পিচ্চি জাহিদ’কে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা মো. ওয়াহিদ (২৫)ও হামলায় আহত হন।
পুলিশ বলছে, পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি গাছ কাটার ঘটনা এবং এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশকে কেন্দ্র করে জাহেদের সঙ্গে কয়েকজনের বিরোধের সৃষ্টি হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহেদ কর্তৃক সরকারি গাছ কেটে চুরি করার অভিযোগসংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন মানিক। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাহেদ ক্ষুব্ধ হয়ে নতুনহাট এলাকার একটি মিষ্টির দোকানের সামনে মানিক ও তার সহযোগীদের হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।
ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পুরানগড় নতুনহাট এলাকায় জাহেদকে মারধর এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর জাহেদ মো. ওয়াহিদকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাজালিয়া স্টেশনের দিকে যাওয়ার সময় ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় তাদের পথরোধ করা হয় বলে পুলিশ জানায়। এ সময় একদল সশস্ত্র ব্যক্তি গাছের গুঁড়ি ও ভ্যানগাড়ি দিয়ে সড়ক আটকে তাদের ঘিরে ফেলে। পরে দা, কিরিচ, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে জাহেদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনায় নিহতের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ২ সেপ্টেম্বর সাতকানিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়।
গোয়েন্দা নজরদারিতে গ্রেপ্তার ১২
হত্যাকাণ্ডের পর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএমের সার্বিক নির্দেশনায় আসামিদের গ্রেপ্তার ও ঘটনার রহস্য উদঘাটনে অভিযান শুরু করে জেলা গোয়েন্দা শাখা।
পুলিশ জানায়, আসামিদের সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হয়। একপর্যায়ে পাহাড়তলী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. আজাদ ও মো. হেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তে মামলার একাধিক আসামি চট্টগ্রামের বাইরে এবং ঢাকায় আত্মগোপনে থাকার তথ্য পাওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল ঢাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এর ধারাবাহিকতায় ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ১০ এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে মামলায় এ পর্যন্ত মোট ১২ জন এজাহারনামীয় আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জসিম উদ্দিন (৫০), জয়নাল আবেদীন মানিক (২৬), মো. রিদুয়ান (২৬), মো. টিপু (৩৫), আবু মাজহারুল ইসলাম ইফাজ (২০), আব্দুল্লাহ আল তুষার (৩০), খোরশেদ আলম ওরফে ফারুক (৫২), মো. রবিউল হোসেন (২১), আবুল কাশেম (৩৮), হাবিবুর ইসলাম ওরফে হাবিব (২৮), মো. হেলাল ও মো. আজাদ।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মো. আজাদকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ, আদালতে দেওয়া জবানবন্দি এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অবশিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।








