বাংলাদেশ ব্যাংকে ৫ কর্মকর্তার রদবদল, ৩ জনের বদলি বাতিল

গভর্নরের নিয়োগ বাতিলের পরপরই অভ্যন্তরীণ আদেশ; চার পরিচালক ও এক অতিরিক্ত পরিচালককে বদলি, শোকজ–বিতর্কে বদলি হওয়া তিন কর্মকর্তা নিজ দপ্তরে বহাল
টুইট প্রতিবেদক: কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নেতৃত্ব পরিবর্তনের পরপরই বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদল করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর আহসান এইচ মনসুর-এর নিয়োগ বাতিলের প্রেক্ষাপটে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জারি করা একাধিক অভ্যন্তরীণ আদেশে পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।
একই দিনে পৃথক আদেশে শোকজের পর বদলি হওয়া তিন কর্মকর্তার বদলির নির্দেশ বাতিল করে তাঁদের নিজ নিজ বিভাগে বহাল রাখা হয়।
যাঁরা বদলি হলেন
অভ্যন্তরীণ আদেশ অনুযায়ী, পরিচালক মো. জবদুল ইসলামকে হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১ থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে।
পরিচালক মো. শহিদ রেজাকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগ থেকে হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১-এ আনা হয়েছে।
পরিচালক মো. বায়েজিদ সরকারকে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে মতিঝিল অফিসে পদায়ন করা হয়েছে; সেখানে তিনি ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক (কারেন্সি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
পরিচালক গাজী মো. মাহবুবুল ইসলামকে মতিঝিল অফিস থেকে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১-এ বদলি করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পরিচালক মো. কামরুল ইসলামকে গভর্নর অফিস থেকে সদরঘাট অফিসে পদায়ন করা হয়েছে।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, এসব বদলি অবিলম্বে কার্যকর হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বর্তমান দপ্তরে দায়িত্ব হস্তান্তর শেষে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যাঁদের বদলি বাতিল
পৃথক আরেক আদেশে তিন কর্মকর্তার বদলি প্রত্যাহার করা হয়। তাঁরা হলেন, এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের পরিচালক নওশাদ মোস্তফা, বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক এ কে এম মাসুম বিল্লাহ, ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের যুগ্ম পরিচালক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ।
শোকজ নোটিশের পর তাঁদের ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছিল। তবে সর্বশেষ আদেশে সেই বদলি বাতিল করে নিজ নিজ বিভাগে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গভর্নর পদে পরিবর্তন, কর্মকর্তা পর্যায়ে বিক্ষোভ এবং প্রশাসনিক টানাপোড়েনের মধ্যে এই রদবদলকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, মানবসম্পদ এবং ব্যাংকিং নীতি—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শাখায় একযোগে বদলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নতুন প্রশাসন দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় জোরদার করতে চাইছে।
বিশেষ করে কারেন্সি ব্যবস্থাপনা ও ব্যাংকিং প্রবিধি বিভাগে পরিবর্তনকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নীতিগত ধারাবাহিকতা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্যাংক খাতে চলমান একীভূতকরণ প্রক্রিয়া, আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক স্থিতি—এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে। নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর দ্রুত ও সমন্বিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা কতটা সম্ভব হয়, সেটিই হবে আগামী দিনের প্রধান পরীক্ষার বিষয়।






