বিদ্যুৎখাতে বকেয়া মেটাতে ২ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি

মার্চের ঘাটতি পরিশোধে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন, শর্তসাপেক্ষে আইপিপি-আরপিপিকে অর্থ ছাড়।
টূইট প্রতিবেদক: দেশের বিদ্যুৎ খাতে জমে থাকা বকেয়া পরিশোধে বড় অঙ্কের অর্থ ছাড় দিয়েছে সরকার। মার্চ মাসের বিল পরিশোধে ২ হাজার ৬৭ কোটি ৫ লাখ টাকা ভর্তুকি অনুমোদন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়, যা স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদক (আইপিপি) ও ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর (আরপিপি) পাওনা মেটাতে ব্যবহার করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের গত ২১ এপ্রিল জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, এই অর্থ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অনুকূলে ছাড় করা হবে। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বিদ্যুৎ ভর্তুকি খাত থেকেই অর্থের জোগান দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে এবং কেন্দ্রগুলোর আর্থিক চাপ কমাতে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মার্চ মাসে ৮৫টি আইপিপি ও ৯টি আরপিপির প্রকৃত ঘাটতির ভিত্তিতে ভর্তুকির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বকেয়া পরিশোধ সম্পন্ন হয়েছে, ফলে মার্চের দায় মেটানোর মাধ্যমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে সরকার।
তবে অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপ করেছে অর্থ বিভাগ। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত অনুমোদন না থাকা দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিপরীতে কোনো অর্থ এই ভর্তুকি থেকে দেওয়া হবে না।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর দ্রুত অনুমোদন নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
নতুন যুক্ত হওয়া দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র,বিআর পাওয়ার জেন শ্রীপুর (১৬০ মেগাওয়াট) এবং আরপিসিএল-নোরিনকো ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার লিমিটে সংক্রান্ত বিষয়ে স্পষ্টীকরণের পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এছাড়া পূর্বে অনুমোদিত ছয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে নতুন নির্ধারিত ট্যারিফ অনুযায়ী ভর্তুকি সমন্বয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রকৃত ব্যয় ও ভর্তুকির মধ্যে সামঞ্জস্য থাকে।
অর্থ বিভাগ স্পষ্ট করেছে, এই অর্থ শুধুমাত্র নির্ধারিত আইপিপি ও আরপিপির বিল পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে। অন্য কোনো খাতে ব্যয়ের সুযোগ নেই এবং সব ক্ষেত্রে সরকারি আর্থিক বিধিবিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা জোরদারে প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ঘাটতির বিস্তারিত হিসাব অর্থ বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত দায়ের সঙ্গে এই ভর্তুকির সমন্বয় করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভর্তুকির মাধ্যমে তাৎক্ষণিক চাপ কমলেও দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক টেকসইতা নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কার জরুরিভিত্তিতে সংলাপে বসতে রাজনৈতিক হয়ে উঠছে।






