রাজশাহীতে বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে অপচয় কমানোর আহ্বান

অস্বচ্ছ চুক্তি ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে জনস্বার্থ, স্বচ্ছতা ও জ্বালানি সুবিচার নিশ্চিতের তাগিদ
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অস্বচ্ছ চুক্তি, অতিরিক্ত ব্যয় ও অদক্ষতা কমিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এ খাতের বাড়তি ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই পড়ে। তাই বিদ্যুৎ-জ্বালানি নীতির কেন্দ্রে জনস্বার্থ ও জ্বালানি সুবিচারকে গুরুত্ব দিতে হবে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজশাহীর হোটেল ওয়ারিশানের সভাকক্ষে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) রাজশাহী জেলা আয়োজিত ‘ক্যাব প্রস্তাবিত ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর নীতি ও জ্বালানি সুবিচার’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সংলাপে বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট এখন শুধু সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকটেও রূপ নিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু থাকার পরও প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আবার উৎপাদন না করেও কিছু কেন্দ্রকে সক্ষমতা বাবদ অর্থ দিতে হচ্ছে। এর আর্থিক দায় শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র ও ভোক্তাকেই বহন করতে হয়।
ভোক্তার ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমাতে এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার জন্য ক্যাব ১২ দফা প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানান বক্তারা। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে সরকারি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেবা মুনাফামুক্ত করে বছরে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়, অতিরিক্ত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি কমানো, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার বিষয় রয়েছে।
এ ছাড়া ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিদ্যুতের চাহিদা ১৫ শতাংশ কমানো এবং তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে ক্যাব। সংগঠনটির হিসাবে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বছরে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব।
সংলাপে সভাপতিত্ব করেন ক্যাব রাজশাহী জেলা সভাপতি কাজী গিয়াস। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্যাবের সমন্বয়কারী (গবেষণা) প্রকৌশলী এমএএম গোলাম কিবরিয়া।
এ সময় বক্তব্য দেন ক্যাবের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা প্রকৌশলী একেএম খাদেমুল ইসলাম ফিকসন ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক মারুফা কলি। মুক্ত আলোচনায় ক্যাব রাজশাহী, সুজন, রাজশাহী স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটি, ক্যাব নাটোর, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ ও পবা উপজেলার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা জ্বালানি খাতে অপচয় ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধ, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানো, জ্বালানি-সংক্রান্ত অনিয়ম ও অপরাধ নির্মূল এবং জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন। আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে জনস্বার্থ, জ্বালানি সুবিচার ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।






