রাবির প্লাজমা প্রযুক্তিতে ফসলে জিংক বাড়ানোর সাফল্য

ধান, আলু ও বেগুনে জিংক বৃদ্ধির পাশাপাশি অঙ্কুরোদ্গম ও উৎপাদন বাড়ানোর সম্ভাবনা
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় প্লাজমা প্রযুক্তি প্রয়োগ করে ধান, গম, আলু, বেগুন ও পালংশাকসহ বিভিন্ন ফসলের বীজের অঙ্কুরোদ্গম, উৎপাদন এবং পুষ্টিমান বাড়ানোর সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ফসলের উৎপাদন সময় কমানো ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণেও প্রযুক্তিটির কার্যকারিতার তথ্য মিলেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্লাজমা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণাগারে পরিচালিত এ গবেষণায় বিশেষভাবে খাদ্যে ক্ষুদ্র পুষ্টি উপাদান বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। গবেষণায় ধানে জিংকের পরিমাণ ৫৯ শতাংশ, আলুতে ২০৪ শতাংশ এবং বেগুনে ৮৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখা গেছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্লাজমা প্রযুক্তি প্রয়োগের পর ধানবীজের অঙ্কুরোদ্গমের হার ৭৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৬ শতাংশ, গমে ৭৫ থেকে ৯৫ শতাংশ, বেগুনে ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ এবং পালংশাকে ৭০ থেকে ৯২ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছে।
গবেষকদের হিসাবে, প্রযুক্তিটি ব্যবহার করে ফসলের উৎপাদন সময় প্রায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমানো সম্ভব হতে পারে। ধানের ক্ষেত্রে উৎপাদন সময় ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত কমার সম্ভাবনাও পাওয়া গেছে।
অঙ্কুরোদ্গমের হার বাড়ার কারণে একই পরিমাণ জমিতে তুলনামূলক কম বীজ প্রয়োজন হতে পারে। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, দেশে ধানবীজের প্রয়োজন প্রায় ২ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টন থেকে কমে প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ টনে নামতে পারে। এতে প্রায় ৪৬ হাজার টন বীজ সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
গমের ক্ষেত্রে বীজের প্রয়োজন প্রায় ১ লাখ টন থেকে কমে ৮৫ হাজার টন এবং বেগুনের ক্ষেত্রে ২৫ হাজার কেজি থেকে প্রায় ২২ হাজার কেজিতে নামতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিটির সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন গবেষকরা। তাদের হিসাবে, প্রচলিত ব্যবস্থার তুলনায় প্লাজমা প্রযুক্তি প্রয়োগে ধান, গম, আলু, বেগুন ও পালংশাকের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। পাশাপাশি বীজের ব্যবহার কমলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানোর সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
গবেষকরা বলছেন, বীজ প্রক্রিয়াকরণ এবং প্লাজমা-সক্রিয় পানি ব্যবহারের মাধ্যমে ফসলের বৃদ্ধি ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন রোগজীবাণু নিয়ন্ত্রণেও কার্যকারিতা পাওয়া গেছে। ভবিষ্যতে এর মাধ্যমে কৃষিতে রাসায়নিক ব্যবহারের ওপর নির্ভরতা কমানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।
গবেষণায় যুক্ত রাবির ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেসের পিএইচডি গবেষক মো. মামুনুর রশিদ জানান, বিভিন্ন ধরনের প্লাজমা উৎস ব্যবহার করে বীজ প্রক্রিয়াকরণ ও প্লাজমা-সক্রিয় পানি প্রয়োগে অঙ্কুরোদ্গম, উৎপাদন বৃদ্ধি, উৎপাদন সময় কমানো এবং রোগবালাই দমনে সাফল্য পাওয়া গেছে।
গবেষণার সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রশিদ তালুকদার বলেন, গবেষণার ফলাফল কৃষক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারলেই এর প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে। ল্যাব পর্যায়ে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা প্রমাণের পর এখন মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ এবং কৃষকদের জন্য প্রযুক্তিটি সহজলভ্য করাই বড় প্রয়োজন।
গবেষকদের দাবি, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, সরঞ্জাম ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা পাওয়া গেলে গবেষণাগারের এ প্রযুক্তি মাঠপর্যা






