যুক্তরাষ্ট্রকে কি বিশ্বাস করা যায়?

 

ইসলামাবাদ বৈঠকের পরও বাড়ছে অবিশ্বাস, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় নতুন শঙ্কা।

টুইট প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট ঘিরে আবারও প্রশ্ন উঠেছে,যুক্তরাষ্ট্র কি আদৌ তার আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে? ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক উত্তেজনা, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা এবং যুদ্ধবিরতির আড়ালে সামরিক তৎপরতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের অতীত ইতিহাসই আজ ইরানের অবিশ্বাসকে আরও জোরালো করেছে।

সাম্প্রতিক সংঘাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। ট্রাম্প যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিজয়’ হিসেবে তুলে ধরলেও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বড় অংশ এটিকে কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন। নির্বাচনের আগে “নতুন যুদ্ধ নয়” এবং “শান্তির প্রেসিডেন্ট” হওয়ার যে প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প দিয়েছিলেন, বাস্তব পরিস্থিতি তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র হাজির করেছে।

ইসলামাবাদে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পরও কোনো সমঝোতা না হওয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনায় ইরানের ‘অসহযোগিতা’ নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেন। তবে কূটনৈতিক মহলের মতে, এটি ছিল প্রকৃত আলোচনার চেয়ে চাপ প্রয়োগের কৌশল বেশি।

ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, আলোচনার সময়ও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক তৎপরতা তাদের আস্থাকে ভেঙে দিয়েছে। তেহরানের অভিযোগ—শান্তি আলোচনা চলাকালেই ইরানে হামলা চালানো হয়েছে, বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে এবং দেশটির নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া কোনো আশ্বাসকে এখন আর নির্ভরযোগ্য মনে করছে না ইরান।

বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২০১৫ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হওয়া পারমাণবিক চুক্তি থেকেও একতরফাভাবে সরে দাঁড়িয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। পরে জো বাইডেন প্রশাসন ইরানের আটকে রাখা অর্থ ছাড়ের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। ফলে ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর পুনর্গঠনের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা পূরণ করেনি যুক্তরাষ্ট্র। একইভাবে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গেও বিভিন্ন চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ডেমোক্র্যাট কিংবা রিপাবলিকান—দল পরিবর্তন হলেও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির মূল চরিত্রে খুব বেশি পরিবর্তন দেখা যায় না।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, কূটনৈতিক সমাধানের পথ সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অবরোধ, হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক প্রস্তুতি এবং ইসরাইলের সঙ্গে সমন্বিত অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি দ্রুত কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য শান্তি উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে পরিস্থিতি নতুন আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

আর সেই সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপরও বড় প্রভাব ফেলবে।