লেবাননে রক্তঝরা ভোর

ষদক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি নৌ হামলায় শিশুসহ নিহত ১২, চিকিৎসক দলও হামলার মুখে।

টুইট প্রতিবেদক: দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ভয়াবহ সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। শুক্রবার ভোরে আল-মানসুরি, বাইয়ুত আল-সাইয়াদ ও উপকূলীয় হামরা এলাকার বিস্তীর্ণ অংশে ধারাবাহিক বিমান ও গোলাবর্ষণে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। হামলায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলি বাহিনী ভোরের দিকে বাইয়ুত আল-সাইয়াদ অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় সামরিক হেলিকপ্টার থেকে ব্যাপক গোলাবর্ষণ করা হয়। সীমান্তঘেঁষা জনপদগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ছাড়তে শুরু করে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটে উদ্ধার তৎপরতার সময়। এনএনএ জানিয়েছে, জিবকিন পৌরসভার দিকে যাওয়ার পথে রেড ক্রস ও লেবাননের সেনাবাহিনীর চিকিৎসক দলকে লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়। ওই চিকিৎসক দল আগের হামলায় নিহতদের মরদেহ উদ্ধার এবং আহতদের সরিয়ে নেওয়ার কাজে নিয়োজিত ছিল। কিন্তু গোলাবর্ষণের মুখে তাদের পিছু হটতে বাধ্য হতে হয়।

এদিকে আল-খিয়াম শহরের অভ্যন্তরে বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবরও পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে।

চলতি বছরের মার্চের শুরু থেকে লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৭২৭ জনে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত আট হাজার ৪৩৮ জন। ক্রমবর্ধমান এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় আকারের অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজা যুদ্ধের প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে লেবানন পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় পুরো অঞ্চল এখন দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উত্তেজনার মুখোমুখি।

আন্তর্জাতিক মহল থেকে যুদ্ধবিরতি ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার দাবি জোরালো হলেও বাস্তবে হামলার মাত্রা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

সূত্র: আল জাজিরা, এনএনএ।