খারগ দ্বীপে তেলের দাগ

ইরানের প্রধান তেল টার্মিনালে রহস্য, নীরব যুক্তরাষ্ট্র

টুইট প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের উপকূলে বিশাল তেলের আস্তরণ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে উপসাগরীয় জলসীমায় ছড়িয়ে পড়া এই তেলের দাগ স্পষ্টভাবে ধরা পড়লেও এর উৎস সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি তেহরান। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ যুক্তরাষ্ট্রও।

মার্কিন সংবাদ সংস্থা এপি জানিয়েছে, গত সপ্তাহের শুরুতে ধারণ করা স্যাটেলাইট ছবিতে প্রথম তেলের আস্তরণ শনাক্ত হয়। পরে শুক্রবারের সর্বশেষ চিত্রে দেখা যায়, খারগ দ্বীপসংলগ্ন সাগর এলাকায় প্রায় ৭১ বর্গকিলোমিটারজুড়ে তেল ছড়িয়ে পড়েছে।

সামুদ্রিক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান ‘উইন্ডওয়ার্ড এআই’-এর তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু পরিবেশগত ঝুঁকিই নয়, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে। কারণ খারগ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি।

এখান থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়।

এদিকে তেল নিঃসরণের পেছনে নাশকতা বা সামরিক হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সম্প্রতি ইরানি জাহাজ ও উপকূলীয় স্থাপনাকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়লেও এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।

ওয়াশিংটনের এই নীরবতা কূটনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।পর্যবেক্ষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এমন ঘটনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং ইসরাইল সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এখন পর্যন্ত তেলের আস্তরণ নিয়ন্ত্রণ কিংবা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি ইরান। তবে ঘটনাটি ঘিরে আন্তর্জাতিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।