হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পালটাপালটি হামলা

পাল্টাপাল্টি হামলায় টানটান পরিস্থিতি, যুদ্ধবিরতি নিয়ে শঙ্কা।
টুইট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তেলবাহী জাহাজকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সংঘাতে উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি হামলার দাবি করেছে। এতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার নাজুক যুদ্ধবিরতি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, জাস্ক বন্দরের কাছে একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন বাহিনী প্রথমে হামলা চালায়। এর জবাবে ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌ ইউনিট হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার- ইউএসএস ট্রাক্সটন, ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা ও ইউএসএস মেসনকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের হামলা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে এবং কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, “আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা” হিসেবে পরে ইরানের কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, মিনাব ও সিরিক অঞ্চলের সামরিক স্থাপনায় বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।
ইরান দাবি করেছে, তাদের হামলায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ওমান উপসাগরের দিকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দাবি নাকচ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়াতে চায় না, কিন্তু নিজেদের বাহিনী রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান এই সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল সরবরাহ এই জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ইতোমধ্যে সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।






