ইয়েমেনে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৫

 হুথিদের হামলায় আহত ১৬, নিরাপদে আছেন প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সদস্যরা

টুইট ডেস্ক: ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও দপ্তর আল-মাশিক প্রাসাদ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথি গোষ্ঠী। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের মধ্যে প্রাসাদের নিরাপত্তারক্ষী ও বেসামরিক কর্মীরা রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হামলায় পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। হামলার সময় সরকারের কয়েকজন সদস্য প্রাসাদের ভেতরে অবস্থান করছিলেন।

ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসেম বুহাইবেহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি এ হামলাকে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এডেন বিমানবন্দরে ইয়েমেনের সরকারকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার পুনরাবৃত্তি বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, সরকার জনগণের মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।

হামলার পর দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিন্দানি এবং সরকারের অন্য সদস্যরা নিরাপদে রয়েছেন। তবে ইয়েমেনের সরকারি বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে প্রাসাদের আশপাশের বেসামরিক বাড়িঘরেও গোলাবর্ষণের কথা বলা হয়েছে।

হুথি নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশন একটি সামরিক সূত্রের বরাতে প্রাসাদে হামলার বিষয়টি জানিয়েছে। তবে হামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি গোষ্ঠীটি।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া কাসিম সারী জানিয়েছেন, এডেনে সৌদি সামরিক অভিযানের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি সামরিক উপস্থিতি রয়েছে, এমন স্থাপনাগুলোকে তাঁরা হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করেন বলেও জানান তিনি।

২০১৪ সালে ইয়েমেনের সরকার ও হুথিদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর রাজধানী সানা দখল করে হুথিরা। এরপর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সংঘাতে দেশটি কার্যত বিভক্ত হয়ে পড়ে। রাজধানী সানাসহ উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের এডেনকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম চালাচ্ছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার।

জুলাইয়ে হুথি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ার পর প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে এটিই প্রথম হামলার ঘটনা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।