রাজশাহীতে সারের দাবিতে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ

তিন শতাধিক কৃষকের বিক্ষোভে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ; প্রশাসনের আশ্বাসে দেড় ঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর পুঠিয়ায় পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত এবং খুচরা বাজারে সার নিয়ে কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দাম বন্ধের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। এতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন তারা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বানেশ্বর বাজার এলাকায় প্রায় তিন শতাধিক কৃষক মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, রোপা আমন মৌসুমে জমিতে সার প্রয়োগের উপযুক্ত সময় চলছে। কিন্তু স্থানীয় সার বিক্রেতাদের কাছে প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের অভিযোগ, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, সকালে বানেশ্বর বাজারে সার বিক্রেতার দোকানের সামনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তারা সার পাননি। পরে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে অবস্থান নেন।
আন্দোলনরত কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, তিন দিন ধরে বানেশ্বর বাজারে ঘুরেও সার পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারি মূল্যে সার না পেলে আমন চাষাবাদ নিয়ে তারা বিপাকে পড়বেন।
আরেক কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও সার না পাওয়ায় কৃষকেরা বাধ্য হয়ে মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছেন। সার সরবরাহে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন আটকা পড়ে। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করে। এ সময় পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান চরচাকে অসাধু সার বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং দ্রুত নির্ধারিত মূল্যে সার সরবরাহের আশ্বাস দেন। পরে কৃষকেরা অবরোধ তুলে নেন। বেলা সাড়ে ১১টার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
তবে কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় সার বিক্রেতা এবং রাজশাহী জেলা সার ও কীটনাশক কমিটির সভাপতি ওছমান আলী। তিনি বলেন, তাদের এলাকায় ইউরিয়ার কোনো সংকট নেই। তার কাছে ১ হাজার ৪০ বস্তা বা প্রায় ৫১ মেট্রিক টন ইউরিয়া মজুদ রয়েছে। এছাড়া দেড় টন ডিএপি, প্রায় এক টন এমওপি এবং ১ দশমিক ৬৫ মেট্রিক টন টিএসপি মজুদ আছে। তবে মাসের শেষ দিকে ইউরিয়া ছাড়া অন্যান্য সারের মজুদ কমে গেছে বলে জানান তিনি।
কৃষকদের দাবি, বরাদ্দ অনুযায়ী ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও অন্যান্য সার ন্যায্যমূল্যে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সার নিয়ে কৃত্রিম সংকট কিংবা অতিরিক্ত দামের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।






