দাবানল-তাপপ্রবাহে বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণের শঙ্কা

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে চরম দাবানল; বছরে প্রায় ১ লাখ অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা।

নিজস্ব প্রতিবেদক: তীব্র দাবানল ও তাপপ্রবাহ বিশ্বজুড়ে বায়ুর মানোন্নয়নের উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থা। সংস্থাটির মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম দাবানলের ঝুঁকি বাড়ছে, ফলে আন্তর্জাতিক বায়ুমান লক্ষ্যমাত্রা অর্জন আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বলেছে, বায়ুদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। তাই দুটি সংকটকে আলাদাভাবে নয়, সমন্বিত নীতির মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে।

সংস্থার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা লরেঞ্জো লাব্রাদর রয়টার্সকে বলেন, কোনো শহর বা অঞ্চলে শিল্প ও যানবাহনের দূষণ কমলেও দাবানলের ধোঁয়া সেখানে পৌঁছালে বায়ুর মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

প্রতিবেদনে সূক্ষ্ম কণা বা পিএম২.৫ এবং ভূমিস্তরের ওজোনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব দূষক শ্বাসতন্ত্র ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। দাবানলের ধোঁয়ার সূক্ষ্ম কণায় বিভিন্ন বিষাক্ত রাসায়নিক থাকায় তা শরীরে ব্যাপক প্রদাহ সৃষ্টি করে ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

চলতি বছর স্পেন, ফ্রান্স ও গ্রিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র তাপপ্রবাহ ও ভয়াবহ দাবানল দেখা গেছে। ২০২৫ সালে উত্তর কানাডা, রাশিয়ার কিছু এলাকা ও পশ্চিম-মধ্য আফ্রিকায় অতিরিক্ত দাবানলের কারণে পিএম২.৫-এর ঘনত্ব দীর্ঘমেয়াদি গড়ের চেয়ে বেশি ছিল। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিম স্পেনে গ্রীষ্মের শেষ দিকে ভয়াবহ দাবানলের কারণে বায়ুদূষণ বেড়ে যায়।

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এক গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশকের পর বিশ্বজুড়ে চরম দাবানলের ধোঁয়াজনিত ঘটনা প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। ২০১০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে এসব ধোঁয়ার ঘটনা বছরে প্রায় ১ লাখ অতিরিক্ত মৃত্যুর কারণ হয়ে থাকতে পারে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বায়ুদূষক ও বায়ুমণ্ডলীয় কণার আরও কার্যকর পর্যবেক্ষণ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে কালো কার্বন ও ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি ব্যাপক হলেও এগুলো এখনো পর্যাপ্তভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।