যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আতঙ্কে আটক ভারতীয় নারী

 

ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে বাঁচতে আশ্রয় নিলেও, আইনি অনিশ্চয়তায় বন্দি জীবন,রাতে ঘুমাতেও ভয়।

টুইট প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতির কঠোরতার মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক নারীর আটক হওয়ার ঘটনা।

৫৩ বছর বয়সী আদালত দোভাষী মীনু বাত্রা গত মাসে কর্মসূত্রে উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের মিলওয়াকি শহরে যাওয়ার পথে হঠাৎ করেই দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে গ্রেপ্তার হন।

মীনু বাত্রা কিশোরী বয়সে ধর্মীয় সহিংসতায় বাবা-মা নিহত হওয়ার পর ভারত ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে তিনি “অপসারণ স্থগিতাদেশ” মর্যাদা লাভ করেন, যা তাকে দেশে ফেরত পাঠানো থেকে সুরক্ষা দিলেও নাগরিকত্ব পাওয়ার কোনো পথ খুলে দেয় না।

ফলে দীর্ঘদিন ধরে আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যেই বসবাস করছিলেন তিনি।বর্তমানে তাকে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের একটি আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

মার্কিন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাত্রা জানিয়েছেন, প্রতিদিন রাতেই তিনি আতঙ্কে থাকেন। তার ভাষায়, “ঘুমাতে যাওয়ার সময়ও ভয় লাগে,জানি না, সকালে কোথায় জেগে উঠবো।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার জটিলতা ও মানবিক সংকটকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

“অপসারণ স্থগিতাদেশ” পাওয়া ব্যক্তিরা আইনত বহিষ্কারের হাত থেকে রক্ষা পেলেও স্থায়ী নিরাপত্তা বা নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকেন, যা তাদের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা তৈরি করে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এ ধরনের আটক প্রক্রিয়া শুধু আইনি নয়, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন।

বিশেষ করে যারা ধর্মীয় বা রাজনৈতিক নিপীড়ন থেকে পালিয়ে এসেছে, তাদের জন্য আরও স্থায়ী সমাধানের দাবি উঠছে জোরালোভাবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির মানবিক দিক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।