হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত ঘোষণা, তেলের দামে পতন

যুদ্ধবিরতির আবহে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি; লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে সতর্ক স্থিতি।

টুইট প্রতিবেদক: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী যুদ্ধবিরতির বাকি সময় জুড়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য “সম্পূর্ণ উন্মুক্ত” থাকবে।

এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত কমে যায়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায় তাৎক্ষণিক স্বস্তির ইঙ্গিত দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে “ধন্যবাদ” লিখে প্রতিক্রিয়া জানান।

হরমুজ প্রণালীর স্থিতিশীলতা নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এই বার্তাকে বাজার মনোভাব বদলের একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

লন্ডন ও প্যারিসে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের উদ্যোগে একাধিক দেশের অংশগ্রহণে হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুট নিরাপদ রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের বড় একটি অংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলে।

এদিকে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। বৈরুতে যুদ্ধবিরতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই মানুষ রাস্তায় নেমে উল্লাস ও আতশবাজি করে উদযাপন করে।

তবে পরিস্থিতি এখনো নাজুক। ছয় সপ্তাহের সংঘাতে লেবাননে দুই হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং জনসংখ্যার বড় অংশ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের দুই বেসামরিক নাগরিক ও ১৩ সেনা নিহত হয়েছে।

ইসরায়েল দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের সেনারা ১০ কিলোমিটার গভীর একটি “নিরাপত্তা অঞ্চল” ধরে রাখবে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় এক বৃদ্ধ জানান, তার বাড়ি মাত্র কয়েক মিটার দূরে হলেও তিনি সেখানে প্রবেশ করতে পারছেন না,যা যুদ্ধবিরতির মধ্যেও বাস্তবতার কঠিন চিত্র তুলে ধরছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালীতে আপাত স্বস্তি এবং লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি,দুই ক্ষেত্রেই স্থিতিশীলতা ভঙ্গুর। যেকোনো সময় পরিস্থিতি পুনরায় উত্তপ্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়ে গেছে।