হরমুজ প্রণালি সুরক্ষায় নতুন কূটনৈতিক জোটে ভারত

যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন সামুদ্রিক নিরাপত্তা উদ্যোগে অংশ নিতে আমন্ত্রণ পেয়েছে নয়াদিল্লি; বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিরাপত্তা ঘিরে বাড়ছে কৌশলগত তৎপরতা

টুইট ডেস্ক: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগে যোগ দিতে আমন্ত্রণ পেয়েছে ভারত।

এই উদ্যোগটি মূলত উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সামুদ্রিক বাণিজ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলার লক্ষ্যেই গঠিত হচ্ছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্যারিসে অনুষ্ঠিত একটি কূটনৈতিক বৈঠকের মাধ্যমে এই আমন্ত্রণ দেওয়া হয়। বর্তমানে ৪০টিরও বেশি দেশ এই প্রাথমিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে।

বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় নিরাপদ ও উন্মুক্তভাবে নৌচলাচলের উপযোগী করা।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন এই প্রস্তাবিত জোট যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে কার্যক্রম শুরু করতে চায়।

এতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো যুদ্ধজাহাজ, জনবল এবং মাইন অপসারণসহ প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদানের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি করিডোর। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়, যার একটি বড় অংশ নির্ভর করে ভারতের জ্বালানি আমদানির ওপর।

ফলে এই উদ্যোগে ভারতের অংশগ্রহণকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সামুদ্রিক রুট নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে প্রণালিটি পুনরায় উন্মুক্ত করার ঘোষণা আসলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো রয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে, নতুন এই জোট উদ্যোগ সফল হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক বাণিজ্য স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে।

তবে বাস্তবায়নের পথ কতটা সহজ হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ভূরাজনৈতিক সমঝোতার ওপর।