তেহরানে স্বাভাবিকতার ছায়া, যুদ্ধের দাগ স্পষ্ট

নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মাঝেও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে নগরবাসী

টুইট ডেস্ক: তেহরানে ধীরে ধীরে ফিরছে দৈনন্দিন জীবনের কিছু চেনা দৃশ্য ও শব্দ,রাস্তায় যান চলাচল শুরু হয়েছে, খুলেছে কিছু দোকানপাট, ফুল বিক্রেতারা বসন্তের ফুল সাজিয়ে বসেছেন, রেস্তোরাঁও ফিরছে পুরনো ছন্দে।

তবে এই আংশিক স্বাভাবিকতার আড়ালে স্পষ্ট হয়ে উঠছে পাঁচ সপ্তাহের টানা যুদ্ধের গভীর ক্ষতচিহ্ন।

নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো বন্ধ রয়েছে বিমানবন্দর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলেনি, আর প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা বহাল আছে।

ফলে নাগরিক জীবনে স্বস্তি পুরোপুরি ফিরে আসেনি।বাজারে দ্রব্যমূল্য, যা যুদ্ধের আগেই উচ্চ ছিল, এখন আরও বেড়ে গেছে।

অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসা দীর্ঘ বন্ধের ধাক্কা সামলাতে না পেরে চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। অর্থনীতির ওপর যুদ্ধের চাপ স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে প্রতিটি স্তরে।

নগরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও দৃশ্যত জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট, বেড়েছে ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকধারী নিরাপত্তা সদস্যদের উপস্থিতি।

প্রধান চত্বরগুলোতে মোতায়েন রয়েছে সাঁজোয়া যান।একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন স্থানে শোক ও প্রতিরোধের চিহ্নও দৃশ্যমান।

ইরানের পতাকা, নিহতদের ছবি ও স্মরণে টানানো ব্যানারে ঢেকে গেছে বহু চত্বর ও সড়ক।

বিশেষ করে যুদ্ধের প্রথম দিনে নিহত ‘মিনাবের স্কুলশিশুদের’ স্মরণে স্থাপিত ব্যানারগুলো জনমনে গভীর আবেগ তৈরি করছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে বোঝা যাচ্ছে, তারা এখন দিন গুনে বেঁচে আছেন। অধিকাংশই এই যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে সন্দিহান।

তাদের আশঙ্কা,যে কোনো সময় আবারও সংঘাত শুরু হতে পারে।

সব মিলিয়ে তেহরান এখন এক অদ্ভুত বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে,যেখানে স্বাভাবিকতা ফিরছে, কিন্তু অনিশ্চয়তা ও যুদ্ধের স্মৃতি প্রতিটি মুহূর্তে মনে করিয়ে দিচ্ছে সাম্প্রতিক অতীতের নির্মমতা।