১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা

ইসরায়েল-লেবানন সংঘাত থামাতে ট্রাম্পের উদ্যোগ, তবে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

টুইট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ ছয় সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যে অবশেষে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইসরায়েল ও লেবানন নেতৃত্ব এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কার্যকর হওয়ার কথা।

এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী এবং এটিকে শান্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু একে “ঐতিহাসিক সুযোগ” হিসেবে বর্ণনা করলেও জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনারা ১০ কিলোমিটার গভীর নিরাপত্তা বলয়ে অবস্থান চালিয়ে যায়,যা ভবিষ্যৎ সমঝোতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ, যারা শুরু থেকেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সক্রিয় ছিল।

তবে সংগঠনটির পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয়েছে,ইসরায়েলি বাহিনী পুরোপুরি হামলা বন্ধ না করলে তারা যুদ্ধবিরতি মানবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি “সদিচ্ছার প্রকাশ” এবং পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে তা আরও বাড়ানো হতে পারে।

একইসঙ্গে লেবানন সরকারকে দেশের অভ্যন্তরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

এদিকে বাস্তব পরিস্থিতি এখনও জটিল। ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান বজায় রেখেছে এবং সাম্প্রতিক সময়েও দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার খবর পাওয়া গেছে। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা কতটা স্থায়ী হবে,সে বিষয়ে সংশয় কাটছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি মূলত বৃহত্তর একটি কূটনৈতিক কৌশলের অংশ। কারণ একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির আলোচনা চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে লেবানন ফ্রন্টে উত্তেজনা কমানো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে স্বস্তির বার্তা আনতে পারে। তবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এখনো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে,হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েন।