জুরাছড়িতে নৌকাডুবি: সেনাবাহিনীর তৎপরতায় রক্ষা ১১ প্রাণ

ছবি: এক্স

বেঁচে ফেরা ১১ জন, প্রশ্নে নিরাপত্তা শৈথিল্য। অতিরিক্ত যাত্রী বহনই দুর্ঘটনার কারণ—নদীপথে তদারকি জোরদারের দাবি।

নিজস্ব প্রতিবেদক: পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলার রাজমনিপাড়া এলাকায় নৌকাডুবির ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হওয়া ১১ জন এখন শঙ্কামুক্ত থাকলেও, পুরো ঘটনাটি ঘিরে নদীপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নতুন করে সামনে এসেছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি নৌযান হঠাৎ ডুবে গেলে স্থানীয়ভাবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি প্রথমে নিকটবর্তী সেনা টহল দলের এক সদস্যের নজরে এলে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে সেনাবাহিনীর সদস্যরা পানিতে ডুবে যাওয়া ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

উদ্ধারকৃতদের মধ্যে একজন গর্ভবতী নারী ছিলেন, যাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত নৌযানটি ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী বহন করছিল। নদীপথে নিয়মিত তদারকি ও নিরাপত্তা নির্দেশনা মানার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে শৈথিল্য থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলে নৌপথ অনেক ক্ষেত্রে একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম হওয়ায় এসব নৌযানের ওপর নির্ভরশীলতা বেশি। কিন্তু নিরাপত্তা মানদণ্ড উপেক্ষা করে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জামের অভাব এবং পর্যাপ্ত নজরদারির ঘাটতি বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে।

এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোর নিবন্ধন, যাত্রীসীমা নির্ধারণ এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা প্রদানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই ঘটনার ক্ষেত্রেও তাদের দ্রুত ও পেশাদার তৎপরতা বড় ধরনের প্রাণহানি এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।