৫০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে বাংলাদেশ

প্রবৃদ্ধি ৪.১৪ শতাংশ, কৃষি ও সেবা খাতের অবদান উল্লেখযোগ্য

টুইট ডেস্ক: বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রথমবারের মতো ৫০০ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার দাঁড়িয়েছে ৫০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এক বছর আগে দেশের অর্থনীতির আকার ছিল ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে অর্থনীতির পরিধি প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বেড়েছে প্রবৃদ্ধির গতি

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাসে প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের নিচে থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করা হলেও প্রাথমিক হিসাবে সেই সীমা অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ।

কৃষি ও সেবা খাতের ইতিবাচক ভূমিকা

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কৃষি ও সেবা খাত প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

চলতি অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অন্যদিকে সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে সহায়তা করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ ভোগ এবং সেবাভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

শিল্প খাতে ধীরগতি

তবে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে। চলতি অর্থবছরে এ খাতের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যেখানে আগের অর্থবছরে তা ছিল ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ।

সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া, রপ্তানি প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি এবং দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে অভ্যন্তরীণ ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়ায় শিল্প খাত প্রত্যাশিত গতি ধরে রাখতে পারেনি।

নতুন অর্থনৈতিক মাইলফলক

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের চাপের মধ্যেও ৫০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত হওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্জন।

তাদের মতে, আগামী দিনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর মাধ্যমে এই অগ্রযাত্রা টেকসই করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ৫০০ বিলিয়ন ডলারের নতুন উচ্চতায় পৌঁছানো দেশের উন্নয়ন অভিযাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।