জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা

ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিতের দাবি জর্ডানের, উত্তেজনায় মধ্যপ্রাচ্য; তেলের বাজারে অস্থিরতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ১০ জুন জর্ডানের আল-আজরাক এলাকায় অবস্থিত মার্কিন-সম্পর্কিত বিমানঘাঁটিতে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে তেহরান।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, আল-আজরাকের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটির কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারসহ অন্তত চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে সলিড-ফুয়েল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। তাদের ভাষ্য, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে সমন্বিত বৃহত্তর সামরিক অভিযানের অংশ।

তবে জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্রই আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে। ধ্বংসাবশেষ দেশের বিভিন্ন স্থানে পড়লেও কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্ররাও দাবি করেছে, অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়েছে। কুয়েত ও বাহরাইনেও হামলার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনার পটভূমিতে রয়েছে হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলা। ওই হামলার জবাব হিসেবেই ইরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা।

এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করে সতর্ক করেছে—যেকোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। বিশ্বে মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

১১ জুন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ মেলেনি। তবে পাল্টাপাল্টি হামলার ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইনসহ আঞ্চলিক দেশগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে।