কুষ্টিয়ায় চেতনানাশক ছিটিয়ে বৃদ্ধার বাড়িতে লুট, গ্রেপ্তার ৬

১৭ মিনিটে লুট ১০ লাখ টাকা ও ২০ ভরি স্বর্ণালংকার, উদ্ধার প্রায় ৮ লাখ টাকার গয়না।

টুইট প্রতিবেদক: কুষ্টিয়া শহরে ‘শয়তানের নিশ্বাস’ নামে পরিচিত চেতনানাশক পদার্থ প্রয়োগ করে এক বৃদ্ধাকে অচেতন করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ১৬ আগস্ট দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দুপুর ৩টা ১৩ মিনিট থেকে ৩টা ৩০ মিনিটের মধ্যে মাত্র ১৭ মিনিটে বাড়িতে প্রবেশ করে একা থাকা বৃদ্ধাকে চেতনানাশক পদার্থ ছিটিয়ে অচেতন করে দুর্বৃত্তরা। পরে ঘরে থাকা নগদ ১০ লাখ টাকা ও প্রায় ২০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলে ওয়াসিফ বিল্লাহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে পুলিশ।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার নওদা হোগলবাড়িয়া (শুকুরকান্দি) এলাকায় অভিযান চালিয়ে নাঈম হোসেন, পারভীনা খাতুন, ইন্তাদুল, তারিকুল ইসলাম ও মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিশাকুন্ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে রেহা খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে লুট হওয়া একটি স্বর্ণের গলার হার, এক জোড়া কানের দুল, এক জোড়া ঝুমকা, এক জোড়া বালা, এক জোড়া কানটানা, দুটি স্বর্ণের আংটি ও একটি গলার চেইন উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার করা অলংকারের মোট ওজন ৪৫ দশমিক ৭৮ গ্রাম। স্থানীয় স্বর্ণের দোকানে পরীক্ষা করে এগুলো স্বর্ণের বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। উদ্ধার করা অলংকারের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।

রোববার (৮ নভেম্বর) কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পর ছয়জনকে গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া স্বর্ণালংকারের একটি অংশ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।