আদালতের নথি জালিয়াতি, বাদী ও আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা

মূল আসামির নাম বদলে অন্যজনকে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ, বাদীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর।

টুইট প্রতিবেদক: ঢাকার আদালতে বিচারাধীন একটি মামলার মূল নথি জালিয়াতি করে আসামির নাম ও ঠিকানা পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলার বাদী মো. নূরে আলমকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আইনজীবী মো. মাহবুবুর রহমান খানসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) ঢাকার ভারপ্রাপ্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমানের নির্দেশে আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শরীফ উদ্দিন ভূঁইয়া রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন একটি মামলার শুনানির সময় নথিটি দেখার জন্য বেঞ্চ সহকারীর কাছ থেকে নেন বাদী নূরে আলম। পরে সন্ধ্যায় নথি গোছানোর সময় তাতে গুরুতর কাটাকাটি ও জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।

যেভাবে পরিবর্তন করা হয় আসামির নাম
এজাহার অনুযায়ী, মামলার মূল নালিশি দরখাস্তে টাইপ করা দ্বিতীয় আসামি জুনায়েতের নাম ও ঠিকানা কেটে হাতে লিখে সজিব হোসেন ওরফে বাবুর নাম-ঠিকানা বসানো হয়। শুধু মূল দরখাস্ত নয়, এর সত্যায়িত অনুলিপি, তদন্ত প্রতিবেদন এবং আগের আদেশের নথিতেও একইভাবে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

অথচ সজিব হোসেন ওরফে বাবুর বিরুদ্ধে ওই আদালত আগে কোনো আমল গ্রহণ করেননি।
বিষয়টি বিচারকের নজরে আনার পর বাদী নূরে আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি দাবি করেন, নিজে নথিতে কিছু লেখেননি। তাঁর আগের নিয়োজিত আইনজীবী মো. মাহবুবুর রহমান খান এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজন যোগসাজশ করে আসামির নাম ও ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন।

আইনজীবীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, আদালতের মূল নথিতে কাটাকাটি করে আসামির নাম পরিবর্তন বিচারব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত। এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। সংশ্লিষ্ট কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁকে সর্বোচ্চ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবুল কালাম খান জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। তদন্তে তাঁর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে আইনজীবী সমিতি এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের বিধি অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিচারকের নির্দেশে নিয়মিত মামলা

আদালতের আদেশে বিচারক মো. মাহবুবুর রহমান উল্লেখ করেন, অনুমতি ছাড়াই মামলার মূল নালিশি দরখাস্ত, অনুলিপি, তদন্ত প্রতিবেদন ও আগের আদেশে কাটাকাটি করে জুনায়েতের পরিবর্তে সজিব হোসেন ওরফে বাবুর নাম যুক্ত করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে বাদী তাঁর আগের নিয়োজিত আইনজীবীর মাধ্যমে এ কাজ করানোর কথা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় বাদী ও আইনজীবী ছাড়াও অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে আদালত মনে করেন।

এ কারণে বিষয়টি সরাসরি আমলে না নিয়ে বেঞ্চ সহকারীকে কোতোয়ালি থানায় এজাহার দায়েরের নির্দেশ দেন বিচারক। একই সঙ্গে বাদী নূরে আলমকে নিয়মিত মামলায় পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।