শূন্য খরচে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন ১১২ কর্মী, প্রাথমিক তালিকায় ৩০০

লটারিতে নির্বাচিত প্রার্থীদের হবে ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শুরু হতে পারে কর্মীদের যাত্রা।

টুইট প্রতিবেদক: শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর উদ্যোগে লটারির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৩০০ জন প্রার্থীকে নির্বাচিত করেছে সরকার। মোট ৪ হাজার ২৯ জন আবেদনকারীর মধ্য থেকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় তাঁদের বাছাই করা হয়েছে। চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১১২ জন কর্মী বিনা অভিবাসন ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ নভেম্বর থেকে ৮ নভেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয়। পরে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে লটারি সম্পন্ন করে প্রাথমিকভাবে ৩০০ জনকে নির্বাচিত করা হয়।

নির্বাচিতদের মধ্যে অপারেশনস অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে ২০০ জন এবং কারিগরি দক্ষ কর্মী পদে ১০০ জন রয়েছেন। তাঁদের তালিকা শিগগিরই বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেসের (বোয়েসেল) সরকারি ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হবে।

প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা নেবে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ডিএইচএল সাপ্লাই চেইনের প্রতিনিধিরা। সরাসরি তাঁদের উপস্থিতিতে পরীক্ষা গ্রহণের পর চূড়ান্তভাবে ১১২ জন কর্মী নিয়োগ পাবেন।

ভারপ্রাপ্ত প্রবাসী কল্যাণ সচিব আহমাদুল হক বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি জনশক্তি বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য অর্জনে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হক জানান, সরকারি ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো লটারির মাধ্যমে যোগ্য ও দক্ষ কর্মী বাছাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই নির্বাচিত কর্মীদের মালয়েশিয়াগামী উড়োজাহাজ চলাচল শুরু হবে।

এদিকে পর্যটন, উৎপাদন ও পরিচর্যা খাতে আরও ৫৫৮ জন কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র পেয়েছে বোয়েসেল। এসব কর্মীর চিকিৎসা পরীক্ষা, বিমানভাড়াসহ সম্পূর্ণ ব্যয় নিয়োগকর্তা বহন করবেন। ফলে তাঁরাও কোনো অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

স্বল্প ব্যয়ে নিরাপদ ও স্বচ্ছ বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে কর্মীদের ওপর আর্থিক চাপ কমার পাশাপাশি বৈধ পথে জনশক্তি রপ্তানিও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।