জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে ফেলায় ঢাকা কলেজে বিতর্ক

রাষ্ট্রপতির আগমন ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ; প্রশাসনের দাবি, সংরক্ষিত ছবি দেখে আবারও আঁকা হবে মুছে ফেলা গ্রাফিতি।
টুইট প্রতিবেদক: রাষ্ট্রপতির আগমনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ঢাকা কলেজের দেয়াল থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি সাদা রং দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, সৌন্দর্যবর্ধনের নামে জুলাইয়ের স্মৃতি ও আন্দোলনের চেতনাকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা কলেজের নায়েমের গলি সংলগ্ন সীমানাপ্রাচীর এবং মিরপুর সড়কসংলগ্ন সামনের দেয়ালে আঁকা বিভিন্ন গ্রাফিতি সাদা রং দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে এসব দেয়ালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি, ছাত্র-জনতার সংগ্রাম এবং রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছিল।
গ্রাফিতি মুছে ফেলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৎকালীন গ্রাফিতি অঙ্কনের নেতৃত্বে থাকা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা কলেজ শাখার সভাপতি নাহিয়ান রেহমান রাহাত। তিনি বলেন, দেয়াল থেকে জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে ফেলার মধ্য দিয়ে কলেজ প্রশাসন অগণতান্ত্রিক ও জুলাইয়ের স্মৃতিবিরোধী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তবে কোনোভাবেই জুলাইয়ের স্মৃতি, সংগ্রাম ও আকাঙ্ক্ষা মুছে ফেলা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির ক্যাম্পাসে আগমন অবশ্যই ইতিবাচক বিষয়। তবে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের অজুহাতে গ্রাফিতি মুছে ফেলা গ্রহণযোগ্য নয়। ক্যাম্পাস পরিষ্কার করতে হলে মাঠের ময়লা-আবর্জনা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। জুলাইয়ের স্মৃতিবিজড়িত এসব গ্রাফিতি এখনো শিক্ষার্থীদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ।
এদিকে, কলেজের শিক্ষার্থী মো. জুলফিকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে গ্রাফিতি মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, জুলাইয়ের সব গ্রাফিতি এভাবে মুছে ফেলা কতটা সমীচীন এবং সেগুলো পুনরায় আঁকা হবে কি না। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তবে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুছে ফেলা গ্রাফিতিগুলো পুনরায় আঁকার পরিকল্পনা রয়েছে। কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনোয়ার মাহমুদ বলেন, কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সীমানাপ্রাচীরের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। এ সময় কিছু গ্রাফিতি মুছে ফেলতে হয়েছে। তবে সেগুলোর ছবি সংরক্ষণ করা হয়েছে। ছবি অনুযায়ী পুনরায় গ্রাফিতি আঁকা হবে।
তিনি জানান, একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কোনো গ্রাফিতি মুছে না ফেলতে প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জুলাইয়ের স্মৃতিগুলো নতুন করে আঁকার পাশাপাশি অন্যান্য ছাত্র ও সামাজিক সংগঠন চাইলে সুন্দরভাবে গ্রাফিতি আঁকতে পারবে।
অন্যদিকে, বিষয়টি আগে থেকে জানতেন না বলে দাবি করেছেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে থাকাকালে গ্রাফিতি মুছে ফেলার বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। পরে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। আগে জানলে গ্রাফিতিগুলো মুছে ফেলতে নিষেধ করতেন।
অধ্যক্ষ আরও বলেন, গ্রাফিতির বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের কোনো নেতিবাচক নির্দেশনা নেই। যেসব গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়েছে, সেগুলো আবার আঁকতে হবে। আর যেগুলো এখনো অক্ষত রয়েছে, সেগুলো না মুছে কীভাবে সংস্কার করা যায়, তা বিবেচনা করতে হবে। ক্যাম্পাসের সংস্কার প্রয়োজন, তবে তা গ্রাফিতি বাদ দিয়ে নয়।
উল্লেখ্য, আগামী ২০ নভেম্বর ঢাকা কলেজের ১৮৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে কলেজটির সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এবং বাংলাদেশের বর্তমান ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।






