রিয়াদের বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুথিদের

কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী; হামলার আগে রিয়াদ অঞ্চলে সতর্কবার্তা জারি করেছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ।
টুইট প্রতিবেদক: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সৌদি কর্তৃপক্ষ রিয়াদ অঞ্চলে সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা জারির পর গোষ্ঠীটি এ হামলার দাবি করে।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এর আগে বুধবার ভোরে সৌদি সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ রিয়াদ প্রদেশের বাসিন্দাদের সতর্ক করে জাতীয় আগাম সতর্কবার্তা জারি করে। তবে কিছু সময় পরই সতর্কবার্তাটি প্রত্যাহার করা হয়। এদিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করলেও সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
গত অক্টোবরের শুরুতে হুথিদের ভয়াবহ হামলার পর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ। ওই হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হন। পরে অক্টোবরের শেষ দিকে বিমানবন্দরটি সীমিত পরিসরে পুনরায় চালু করা হয়।
গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরজুড়ে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ২০টির বেশি হামলা ও হামলার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ রয়েছে হুথিদের বিরুদ্ধে।
২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলের পর থেকে দেশটির সরকার ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে হুথিরা। দীর্ঘ আলোচনার পর ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে উত্তেজনা বাড়ে।
লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালির নৌপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার মাধ্যমে রিয়াদ ও তার পশ্চিমা মিত্রদের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে গোষ্ঠীটি।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার দাবি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে আঞ্চলিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক নৌপথে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: এএফপি।






