আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বপ্ন দেখছে উত্তরবঙ্গ, বদলে যেতে পারে প্রবাসীদের যাতায়াত

শাহ মখদুম বিমানবন্দরের রানওয়ে ১০ হাজার ফুট ও টার্মিনাল ৩১ হাজার বর্গফুটে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা; আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা নিয়ে বাড়ছে প্রত্যাশা।
রাজশাহী প্রতিনিধি: উত্তরবঙ্গের লাখ লাখ প্রবাসী কর্মী ও সাধারণ যাত্রীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা। বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত হলে রাজশাহীসহ আশপাশের কয়েকটি জেলার মানুষের বিদেশ যাতায়াতে সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া ও পাবনা জেলার প্রবাসীদের বিদেশ যাত্রার জন্য ঢাকায় গিয়ে ফ্লাইট ধরতে হয়। দীর্ঘ সড়কপথ, যানজট, আবাসন ব্যয় এবং ফ্লাইট মিস করার আশঙ্কায় অনেক পরিবারকে বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
১০ হাজার ফুটের রানওয়ে ও আধুনিক টার্মিনালের পরিকল্পনা
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধানে শাহ মখদুম বিমানবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ১০৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদ্যমান ৬ হাজার ৬০০ ফুট রানওয়ে সম্প্রসারণ করে ১০ হাজার ফুট এবং প্রস্থ ১৫০ ফুট করার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া টার্মিনাল ভবনের আয়তন ৩১ হাজার বর্গফুটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে যাত্রী ধারণক্ষমতা বর্তমানের ২৬০ জন থেকে বেড়ে ৮৫০ জনে পৌঁছানোর কথা।
প্রকল্পের আওতায় টার্মিনাল ভবন, অ্যাপ্রোন, নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়ও রয়েছে। তবে ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রকল্পটির কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ না হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। ফলে পরিকল্পিত অবকাঠামোর সব সুবিধা ইতোমধ্যে চালু হয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা
বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হলে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও মালয়েশিয়ায় কর্মরত উত্তরাঞ্চলের প্রবাসীরা উপকৃত হতে পারেন।
তবে জেদ্দা, রিয়াদ, দুবাই, শারজাহ, দোহা ও মালয়েশিয়ায় সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত সরকারি রুট ঘোষণা পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য অবকাঠামোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অনুমোদন, নিরাপত্তা, ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, এয়ারলাইনসের বাণিজ্যিক আগ্রহ ও পর্যাপ্ত যাত্রী চাহিদা নিশ্চিত করতে হবে।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলে কি যাত্রীসংকট দেখা দেবে
এ প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ করলেই সেটি লাভজনকভাবে পরিচালিত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। নিয়মিত যাত্রী, প্রবাসীদের যাতায়াত, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য, কার্গো পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের আগ্রহের ওপর এর ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।
উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা
রাজশাহীকে কেন্দ্র করে উত্তরাঞ্চলের বিমান যোগাযোগ উন্নত হলে প্রবাসীদের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগ, পর্যটন, কৃষিপণ্য রপ্তানি ও আঞ্চলিক ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
গত ১১ জুলাই ২০২৬ ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কথা জানান। এতে স্থানীয়ভাবে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।
শাহ মখদুম বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের বিমান যোগাযোগে নতুন অধ্যায় সূচিত হতে পারে। তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজন দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়ন, কার্যকর পরিকল্পনা এবং নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার নিশ্চয়তা।
এখন প্রশ্ন, রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক করা কতটা জরুরি। উত্তরাঞ্চলের লাখ লাখ প্রবাসীর সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার কি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।






