প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নতুন প্রাণ পেল দুর্গম পাহাড়ের ম্রো বিদ্যালয়

১০ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে পুনর্নির্মাণ হলো বিদ্যালয় ও ছাত্রাবাস, ফিরল চার পাড়ার অর্ধশতাধিক শিশুর শিক্ষার পরিবেশ
বান্দরবান প্রতিনিধি:বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত বুঝিখাল ম্রো প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ছাত্রাবাস নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বিদ্যালয় ভবন ও ছাত্রাবাস বিধ্বস্ত হয়ে পাঠদান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনিশ্চয়তায় পড়েছিল চার পাড়ার অর্ধশতাধিক শিশুর শিক্ষাজীবন। অবশেষে প্রশাসনের উদ্যোগে ১০ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে বিদ্যালয় ও ছাত্রাবাস।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে নতুন ভবন উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আবারও শিক্ষার পরিবেশ ফিরে পেয়েছে দুর্গম পাহাড়ের শিশুরা।
বিদ্যালয়টি বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়টি প্রথমে নজরে আসে আলীকদম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও শিক্ষক নুরুল ছাফা ভূঁইয়া বাবুর। তিনি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহকে অবহিত করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বান্দরবানের জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানাকে বিষয়টি জানান। জেলা প্রশাসক আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর আলমকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর প্রশাসনের উদ্যোগে শুরু হয় বিদ্যালয় ও ছাত্রাবাস পুনর্নির্মাণের কাজ।
মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহ নবনির্মিত ভবন দুটির উদ্বোধন করেন। ১০ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত বিদ্যালয় ও ছাত্রাবাসের প্রতিটিতে রয়েছে তিনটি করে কক্ষ। উদ্বোধন উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণও বিতরণ করা হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষকদের বেতন-ভাতার বিষয়টিও তিনি নজরে রাখবেন। কোনো কারণে যেন শিশুদের পড়াশোনা বন্ধ না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকসংকট রয়েছে। এ সংকট নিরসনে শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলবেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গর্ডেন ত্রিপুরা বলেন, দ্রুত পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। এ উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
স্থানীয় কারবারি দমলয় মুরুং বলেন, বিদ্যালয়টির আশপাশে চারটি পাড়ার মানুষ বসবাস করেন। শিশুদের পড়াশোনার জন্য এলাকায় আর কোনো বিদ্যালয় নেই। বিদ্যালয়টি নতুন করে গড়ে ওঠায় এখন তাঁদের সন্তানদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি) সজীব কান্তি রৌদ্র বলেন, বিদ্যালয়টি ভেঙে পড়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই তিনি নিয়মিত খোঁজখবর রাখছিলেন। তাঁর আগের জেলা প্রশাসকও কয়েকবার বিদ্যালয়টির পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেছেন।
দুর্গম পাহাড়ে যোগাযোগ ও শিক্ষা অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বিদ্যালয়টি স্থানীয় শিশুদের শিক্ষার একমাত্র আশ্রয়স্থল। নতুন ভবন নির্মাণের মধ্য দিয়ে তাদের শিক্ষাজীবনে স্বস্তি ফিরলেও শিক্ষকসংকট নিরসন এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগই পারে পাহাড়ের এসব শিশুর শিক্ষার আলো নিরবচ্ছিন্ন রাখতে।






