শ্রমিকদের ঢাল বানিয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পোশাক শিল্পে সহিংসতার নেপথ্যে রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল। শ্রমিকদের ব্যবহার করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে, ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে নতুন মজুরি কার্যকরের লক্ষ্য।

নিজস্ব প্রতি‌নি‌ধি: দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে চলমান সহিংসতা ও অস্থিরতার পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, সাধারণ শ্রমিকদের ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত রাজনৈতিক সহিংসতা ও ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে।

বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে গার্মেন্টস শ্রমিকদের কোনো অমীমাংসিত দাবিদাওয়া নেই। এরপরও একটি মহল পরিকল্পিতভাবে শিল্প খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। শ্রমিক আন্দোলনের নামে কিছু বহিরাগত ও অশ্রমিক ব্যক্তি হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মন্ত্রী দাবি করেন, তদন্তে অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়িত্বে থাকা কয়েকজন গার্মেন্টস মালিক, সাবেক সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর রাজনৈতিক ভূমিকার তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি মাফিয়া ও প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পরিচালিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

পোশাক শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল প্রতি তিন বছর পরপর নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন। সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই এ উদ্যোগ নিয়েছে।

শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি মনোনয়নে কিছুটা বিলম্বের কারণে বোর্ড গঠনে সামান্য দেরি হলেও নাম পাওয়ার পরপরই বোর্ড গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বোর্ডের প্রথম সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি জানান, সিনিয়র জেলা জজ পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত বোর্ডে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের প্রতিনিধি রয়েছেন। মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকরের লক্ষ্য নিয়ে বোর্ড কাজ করছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও সার্বিক কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের মূল লক্ষ্য রপ্তানি বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি পোশাক কারখানার মালিকদের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। শ্রমিক নেতাদের সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তাঁর দাবি, উভয় পক্ষই স্বীকার করেছেন যে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড সাধারণ শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলন নয়; বরং রাজনৈতিক স্বার্থে শ্রমিকদের ব্যবহার করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সংযমের নির্দেশ

চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্য গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এরপরও তাঁরা সংযম প্রদর্শন করেছেন। তবে এই সুযোগে অপরাধী ও সংঘবদ্ধ চক্রকে ছাড় দেওয়া হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ শ্রমিকদের গুজব ও উসকানিতে কান না দিয়ে দ্রুত নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শ্রমিকরা কাজে ফিরলে শিল্প উৎপাদন সচল থাকবে এবং তাঁদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিও সুরক্ষিত থাকবে।

সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি আটক হয়ে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকার কারণেই প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।