অপ্রতীম হত্যা মামলায় চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় হত্যার অভিযোগ, আসামিদের মধ্যে দুই কিশোর

টুইট ডেস্ক : কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশিয়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীম (১৩) হত্যা মামলায় চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের মধ্যে দুজন কিশোর, যাদের বয়স ১৫ ও ১৬ বছর। তদন্তে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় অপ্রতীমকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত ২০ অক্টোবর চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। তদন্তে তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

অভিযোগপত্রে আসামি হিসেবে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), মো. সিয়াম (১৯) এবং ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, চারজন মিলে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। তাঁদের মধ্যে সিয়াম ছাড়া বাকি তিনজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তদন্তে বলা হয়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে তুহিন অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার একটি নির্জন পাহাড়ি বনে যায়। সেখানে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে অপ্রতীমের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। এ ছাড়া তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতীমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন ও দুই কিশোর তার মোবাইল ফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। মামলায় সিয়ামের সম্পৃক্ততা যাচাইয়েও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করা হয়েছে।

অভিযোগপত্র দাখিলের মধ্য দিয়ে মামলার তদন্তপর্বে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের অপরাধ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের দোষী হিসেবে গণ্য করা যাবে না।