গ্যাসের সংকট কমাতে তিতাসে দুই কূপ খনন, ব্যয় ৫৯২ কোটি টাকা

নতুন দুই কূপ থেকে দৈনিক ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার আশা; প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে
টুইট ডেস্ক : দেশে গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও পুরনো গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন হ্রাসের মধ্যে সরবরাহ বাড়াতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ নামের কূপ দুটি খনন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে ৫৯২ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। কূপ দুটি থেকে দৈনিক প্রায় তিন কোটি ঘনফুট গ্যাস ও ১৮ ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পেট্রোবাংলার অধীন বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন বছরে প্রকল্পের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় কূপ খননের পাশাপাশি প্রায় দুই কিলোমিটার গ্যাস সংগ্রহের পাইপলাইন নির্মাণ এবং উত্তোলিত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার ব্যবস্থা করা হবে।
প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে ৬৩২ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির পর্যালোচনায় ৪০ কোটি টাকা কমিয়ে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থেকে ৪১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং বিজিএফসিএলের নিজস্ব তহবিল থেকে ১৭৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, নতুন কূপ দুটি চালু হলে তিতাস গ্যাসক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়বে। তবে প্রকৃত উৎপাদন কতটা হবে এবং দেশের সামগ্রিক গ্যাসের ঘাটতি কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে কূপ দুটির উৎপাদনক্ষমতা ও সামগ্রিক চাহিদার ওপর।
তিতাসে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে খনন করা ২৮টি কূপের মধ্যে ২৩টি থেকে দৈনিক প্রায় ৩৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে। নতুন দুটি কূপ থেকে প্রত্যাশিত উৎপাদন পাওয়া গেলে এবং বিদ্যমান কূপগুলোর উৎপাদন অপরিবর্তিত থাকলে ক্ষেত্রটির মোট দৈনিক উৎপাদন প্রায় ৩৬ কোটি ঘনফুটে পৌঁছাতে পারে।
তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে পরিচালিত ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের তথ্য পর্যালোচনার ভিত্তিতে তিতাসে ১৬টি ইনফিল কূপ ও একটি গভীর কূপ খননের সুপারিশ করা হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ কূপকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
১৫০ কূপ খননের লক্ষ্য
দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে সরকার ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এরপর ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরেই ৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রকল্পের নথিতে বলা হয়েছে, আগামী ১০ বছরে প্রায় ১০০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এবং ৬০ হাজার ৮৮৪ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদনের প্রাক্কলন করা হয়েছে। কূপ খনন সফল হলে দেশীয় উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে শুধু কূপ খনন করলেই প্রত্যাশিত সুফল নিশ্চিত হবে না। খননকাজ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ, পাইপলাইন নির্মাণ ও গ্যাস সরবরাহের অবকাঠামো সময়মতো প্রস্তুত করা জরুরি। এসব কাজে বিলম্ব হলে উৎপাদন শুরু এবং প্রকল্পের সুফল পাওয়ার সময়ও পিছিয়ে যেতে পারে।
দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও তিতাসের নতুন কূপ দুটি থেকে প্রত্যাশিত উৎপাদন পাওয়া এবং তা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করাই হবে প্রকল্পের সাফল্যের প্রধান পরীক্ষা।






