রাহুল গান্ধীকে ‘ব্যর্থ পণ্য’, কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ বললেন মোদি

বিরোধী নেতার নেতৃত্ব নিয়ে কটাক্ষ, বিশ্বব্যবস্থার সংস্কার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান
টুইট ডেস্ক : ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে ‘ব্যর্থ পণ্য’ এবং কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ আখ্যা দিয়ে দলটির তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর অভিযোগ, একজন নেতার ধারাবাহিক ব্যর্থতা আড়াল করতে গিয়ে কংগ্রেস ভারতের অর্জন ও অগ্রগতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে এনডিটিভি আয়োজিত বিশ্ব সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব মন্তব্য করেন মোদি। এ সময় কংগ্রেসের সংসদীয় আচরণ, বিরোধী দলের ভূমিকা এবং দলটির নেতৃত্বকেন্দ্রিক রাজনীতির সমালোচনা করেন তিনি।
রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে মোদি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল তার নেতৃত্ব নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটি তাদের নিজস্ব বিষয়। তবে একজন নেতার ব্যর্থতা আড়াল করতে গিয়ে দেশের অর্জন ও সক্ষমতাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কংগ্রেসের নেতৃত্বের সমালোচনায় ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর রকেট উৎক্ষেপণের প্রসঙ্গও টানেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, শ্রীহরিকোটা থেকে রকেট উৎক্ষেপণের চেষ্টার তুলনায় কংগ্রেসের পক্ষে নিজেদের নেতাকে সামনে আনার ব্যর্থ প্রচেষ্টার সংখ্যা আরও বেশি।
কংগ্রেসের সংসদীয় আচরণ নিয়েও সমালোচনা
বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে মোদি বলেন, গণতন্ত্রে সরকারের সমালোচনা গুরুত্বপূর্ণ। তবে সংসদে কংগ্রেসের হট্টগোল ও প্রতিবাদ কর্মসূচির কারণে অন্য বিরোধী নেতারাও নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ হারাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তাঁর ভাষ্য, একজন নেতাকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে গিয়ে কংগ্রেস অন্য বিরোধী সংসদ সদস্যদের কণ্ঠও আড়াল করছে। এ সময় দলটির রাজনৈতিক কৌশল ও নেতৃত্বের ধরন নিয়েও সমালোচনা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্বব্যবস্থার সংস্কারের আহ্বান
অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন মোদি। তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংলাপ এবং সহযোগিতার গুরুত্ব উপলব্ধি করা হয়েছিল। সে সময় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে বিশ্বের শক্তির ভারসাম্য ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের ধরন বদলে গেলেও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের কার্যকরভাবে সংস্কার করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মোদির মতে, একসময় আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় পিছিয়ে থাকা দেশগুলো এখন নিজেদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব দাবি করছে। ফলে বর্তমান বিশ্ববাস্তবতা ও বিদ্যমান আন্তর্জাতিক কাঠামোর মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং নতুন শক্তিগুলোর যথাযথ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বাণিজ্য ও প্রযুক্তি ঘিরে বাড়ছে প্রতিযোগিতা
বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মোদি বলেন, বাণিজ্য এখন চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা ও সংঘাতের নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মোদির বক্তব্যে ভারতের আন্তর্জাতিক ভূমিকা জোরদার করার পাশাপাশি দেশের বিরোধী রাজনীতি নিয়ে তাঁর অবস্থানও উঠে আসে। তবে রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসকে ঘিরে তাঁর মন্তব্যগুলো ছিল রাজনৈতিক সমালোচনার অংশ।






