সৌদি আরবের নিরাপত্তায় পাকিস্তানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন শাহবাজ শরিফ

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় রিয়াদ ও আভা বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা; হুথিদের অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় পাকিস্তানের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির (এমজেডিএ) আওতায় সৌদি আরবের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে তিনি দেশটির রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি গোষ্ঠীর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শাহবাজ শরিফ বলেন, সৌদি আরবের ওপর ধারাবাহিক হামলা এবং এতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা নিন্দনীয়। সৌদি আরবের সশস্ত্র বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট জোটের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সক্ষমতা, সতর্কতা ও পেশাদারত্বেরও প্রশংসা করেন তিনি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের নেতৃত্ব ও জনগণের সঙ্গে পাকিস্তান দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করছে। দেশটির জনগণ, শহর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অধিকারকে পাকিস্তান সমর্থন করে। একই সঙ্গে হুথি গোষ্ঠীকে অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম রেডিও পাকিস্তানেও প্রকাশিত হয়েছে।
বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ৩, আহত ৩৬
সৌদি আরবের সাধারণ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (জিএসিএ) তথ্য অনুযায়ী, ৬ ও ৭ অক্টোবর আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক হামলার ঘটনায় তিনজন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে আভা বিমানবন্দরে মরক্কো ও আলজেরিয়ার দুই নারী এবং রিয়াদ বিমানবন্দরে সুদানের একজন নাগরিক রয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে সৌদি নাগরিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরাও রয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরগুলোর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করে।
হুথি গোষ্ঠী হামলাগুলোর দায় স্বীকার করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে হামলার দায় স্বীকারের বিষয়টি এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া হতাহতের তথ্য পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সক্রিয় হচ্ছে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আগস্ট ২০২৬-এ স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মূল নীতি অনুযায়ী, একটি সদস্য দেশের ওপর আক্রমণকে অন্য সদস্যদের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
সৌদি আরবের ওপর ধারাবাহিক হামলার পর তিন দেশের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে সহায়তা দিতে দ্রুত সামরিক সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে তিন দেশের সহযোগিতার ধরন, সেনা মোতায়েনের পরিধি এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি সম্পর্কে সব বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। বিশেষ করে তুরস্কের সম্ভাব্য সহায়তার ধরন নিয়ে দেশটির পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষামূলক ও কারিগরি সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তায় বাড়ছে উদ্বেগ
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ
বিমানবন্দরগুলোতে হামলা এবং পাল্টা সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলও প্রভাবিত হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তব প্রয়োগের ধরন এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এই সহযোগিতা আঞ্চলিক সংঘাতকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সামরিক সিদ্ধান্ত, কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির ওপর।
সৌদি আরবের নিরাপত্তায় পাকিস্তানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে শাহবাজ শরিফের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, রিয়াদকে ঘিরে চলমান নিরাপত্তা সংকটে ইসলামাবাদ যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
এখন নজর থাকবে তিন দেশের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং হামলা বন্ধে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তামূলক উদ্যোগের দিকে।






