সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় অধ্যাপক জামাল উদ্দিন গ্রেপ্তার

পল্টন থানার মামলায় আদালতের আদেশ, জামিন আবেদন নামঞ্জুর; আগের মামলায় গ্রেপ্তারের পর থেকেই কারাগারে রয়েছেন তিনি।

টুইট প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনকে রাজধানীর পল্টন থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।

বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম জশিতা ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে তদন্তে পাওয়া আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে যুক্তি দেন এবং জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতে অভিযোগ করেন, আন্দোলনের সময় অধ্যাপক জামাল উদ্দিন শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়েছিলেন এবং তাঁদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, তিনি তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

তবে এসব অভিযোগের বিরোধিতা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার। তিনি বলেন, অধ্যাপক জামাল উদ্দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্বনামধন্য শিক্ষক এবং মিথ্যা অভিযোগে তাঁকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি আদালতের কাছে তাঁর জামিন আবেদন করেন।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৮ মে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সদস্য, অর্থদাতা ও নির্দেশদাতারা রাজধানীর গুলিস্তান ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় নাশকতার উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছিলেন বলে পুলিশের অভিযোগ। ওই সময় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের বিপরীতে একটি হোটেলের সামনে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে। পুলিশের দাবি, তখন আরও ১৪০ থেকে ১৫০ জন পালিয়ে যান। এ ঘটনায় পল্টন থানায় মামলা করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওই ঘটনায় সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। পুলিশের দাবি, তিনি নিষিদ্ধ সংগঠনের আদর্শ সমর্থন, অপরাধের ষড়যন্ত্র এবং সরকারবিরোধী মিছিল-সমাবেশে নেতৃত্ব দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এর আগে গত ১১ মার্চ রাজধানীর গুলিস্তান স্টেডিয়াম এলাকা থেকে একটি পদযাত্রা কর্মসূচি চলাকালে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে পল্টন থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আরেকটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর ফলে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে চলমান আইনি কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হলো। তবে আদালতে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হয়নি।