শাহজালাল বিমানবন্দরের ভোগান্তি নিরসনের দাবি

লাগেজ কেটে চুরি, যাত্রী হয়রানি ও সেবার ঘাটতি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান।

টুইট প্রতিবেদক: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা, যাত্রী হয়রানি ও লাগেজ থেকে মালামাল চুরির ঘটনা দ্রুত বন্ধে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী।

বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি বিমানবন্দরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ, দামি প্রসাধনসামগ্রী, বৈদ্যুতিক ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ প্রায়ই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অভিযোগ থাকলেও কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত না হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেন, প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি যাত্রী শাহজালাল বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যে ধরনের শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও যাত্রীবান্ধব পরিবেশ থাকা প্রয়োজন, সেখানে তার ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন পর দেশে ফেরা প্রবাসী, নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং প্রথমবার বিদেশযাত্রীরা নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।

তিনি বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দর শুধু দেশের যাত্রীদের যাতায়াতের কেন্দ্র নয়; বিদেশি পর্যটক, ব্যবসায়ী, কূটনীতিক ও বিনিয়োগকারীদের কাছেও এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। ফলে বিমানবন্দরের সেবার মান ও নিরাপত্তার ঘাটতি দেশের ভাবমূর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিমানবন্দরকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যাত্রীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ বন্ধে নিরাপত্তা ও সেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আধুনিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে। একই সঙ্গে লাগেজ চুরি বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত অসাধু চক্র শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
মাওলানা মিয়াজী আরও বলেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেই বিমানবন্দরের সমস্যার সমাধান হবে না। যাত্রীদের ভোগান্তির প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করতে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বিমানবন্দরের টার্মিনাল, শৌচাগার, অপেক্ষাকক্ষ, খাবারের স্থান, বসার জায়গা ও যাত্রী চলাচলের পথ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিটি সংস্থাকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবার মান উন্নত করা এখন জরুরি বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বারে যাত্রীদের নিরাপত্তা, সম্মান ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।