‘স্বপ্ন’ লেখা ব্যাগ উপহার পেয়ে আবেগঘন পোস্ট দুর্গাপুরের ইউএনওর

নিজের হাতে তৈরি ব্যাগ উপহার দিয়ে ইউএনওকে আবেগাপ্লুত করলেন মাহমুদা বেগম; অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের জন্য দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ার স্বপ্ন।
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর দুর্গাপুরে আনুলিয়ার মহিয়সী মা মোসাম্মৎ মাহমুদা বেগমের হাতের তৈরি ‘স্বপ্ন’ লেখা একটি ব্যাগ উপহার পেয়ে আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানা।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত না হলেও জীবন ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা মাহমুদা বেগমকে শিখিয়েছে অনেক কিছু। নিজের তিন সন্তানকে তিনি সুশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর বড় ছেলে আরবি প্রভাষক, মেয়ে কামিল পাস এবং ছোট ছেলে কবিতা লেখেন ও রাজশাহী কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন।
নিজের হাতে নানা সামগ্রী তৈরি করা মাহমুদা বেগম শুধু নিজের সন্তানদেরই গড়ে তুলেননি, প্রতিবন্ধী শিশুদেরও কাজ শেখাচ্ছেন। শতাধিক হাতপাখা তৈরি করে বিনামূল্যে বিতরণ করেছেন তিনি; কারও কাছ থেকে এর মূল্য নেননি। তাঁর স্বপ্ন—একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যেখানে অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষ কাজ শিখে নিজেদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আয় করতে পারবেন এবং আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারবেন।
সম্প্রতি মাহমুদা বেগম ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী টেবিলজুড়ে সাজিয়ে দেন। সেসব সামগ্রী দেখার সময় ইউএনও উপলব্ধি করেন, কত বড় হৃদয় হলে একজন মানুষ নিজের শ্রমের মূল্য না নিয়ে অন্যের জন্য কাজ করে যেতে পারেন।
মাহমুদা বেগমের কাছ থেকে ‘স্বপ্ন’ লেখা ব্যাগটি উপহার পেয়ে ইউএনও লিখেছেন—“এটি কোনো সাধারণ উপহার নয়; একজন মায়ের বুকের ভেতর লুকিয়ে থাকা অসংখ্য মানুষের জন্য স্বপ্নের একটি টুকরো।”
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে সামান্য উপহার ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। মাহমুদা বেগম জানিয়েছেন, এটি তাঁর জীবনের প্রথম পাওয়া উপহার।
তাঁর এই কথায় ইউএনওর মনে হয়েছে, উপহারের চেয়েও তাঁর আনন্দটাই বড়। কখনো কখনো সামান্য কিছুই কারও কাছে অনেক বড় ভালোবাসা হয়ে ওঠে।
মাহমুদা বেগমের দেওয়া ‘স্বপ্ন’ নামের ব্যাগটি যত্ন করে রাখার কথা জানিয়েছেন ইউএনও। তাঁর দক্ষতা যেন শুধু শখ হয়ে না থাকে, বরং একদিন তা তাঁর নিজের এবং আরও অনেক মানুষের জীবিকার পথ হয়ে ওঠে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন তিনি। উপজেলা প্রশাসন তাঁর পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও উম্মে হাবিবা ফারজানার ভাষায় “স্বপ্ন দেখুন, স্বপ্ন ছড়িয়ে দিন—একদিন এই স্বপ্নই অনেক মানুষের জীবনের আলো হয়ে উঠুক।”








