তিতাসে দেশের সবচেয়ে গভীর কূপের খনন চলছে

তিন কূপ থেকে ছয় মাসের মধ্যে দৈনিক ৪০-৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার আশা
টুইট ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে নতুন তিনটি কূপ খনন করছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। এর মধ্যে ৩১ নম্বর কূপটি দেশের প্রথম ও সবচেয়ে গভীর অনুসন্ধান কূপ হিসেবে ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতায় খনন করা হচ্ছে। নতুন তিন কূপ থেকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৪০ থেকে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নন্দনপুর এলাকায় ৩১ নম্বর কূপটির খননকাজ শুরু হয় চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল। এরই মধ্যে কূপটির ৪ হাজার ৬৩৭ মিটার খনন সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছরেই ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতায় খনন শেষ করে কূপটি থেকে দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৬৯ সালে তিতাসে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭০০ মিটার গভীরতায় খনন করা হয়েছিল। এবার সেই সীমা ছাড়িয়ে আরও গভীরে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। ভূকম্পন জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে ৩ হাজার ৭০০ মিটারের নিচে প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৩টি কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। পুরোনো কূপগুলোর গ্যাসের মজুত ও চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদনও ধীরে ধীরে কমছে। এ অবস্থায় উৎপাদন বাড়াতে ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ খননের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৯ ও ৩১ নম্বর কূপের খননকাজ চলছে। ২৯ নম্বর কূপের কাজ শেষ হলে একই খননযন্ত্র দিয়ে ৩০ নম্বর কূপের কাজ শুরু করা হবে।
গভীর অনুসন্ধান কূপের প্রকল্প পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব জানান, কোনো বড় কারিগরি জটিলতা না হলে ২৯ নম্বর কূপের খনন আগামী দুই মাসের মধ্যে শেষ হতে পারে। ৩১ নম্বর কূপের কাজ শেষ করতে আরও তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে। সব মিলিয়ে তিনটি কূপ থেকে আগামী ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে উৎপাদন শুরুর আশা রয়েছে।
তিনি বলেন, ৩১ নম্বর কূপটি উচ্চচাপ ও উচ্চতাপমাত্রার বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করে ৫ হাজার ৬০০ মিটার পর্যন্ত যাবে। এর মাধ্যমে তিতাসের আগের সর্বোচ্চ খননসীমার নিচে গ্যাসের উপস্থিতি সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যাবে।
বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে তিনটি কূপ থেকে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার আশা রয়েছে। এই গ্যাসের মাধ্যমে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর কিছুটা নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয়ও হবে বলে জানান তিনি।
তিতাস গ্যাসক্ষেত্র ১৯৬২ সালে আবিষ্কৃত হয়। ১৯৬৮ সালে এখান থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। দেশের অন্যতম বৃহৎ এ গ্যাসক্ষেত্রে নতুন গভীর স্তরে অনুসন্ধানকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।






