উপজেলায় ১০ তরুণ উদ্যোক্তা পাবেন ২০ লাখ টাকার অর্থায়ন

প্রথম ধাপে ৮ জেলার ৬৪ উপজেলায় ৬৪০ উদ্যোক্তা নির্বাচিত হবেন; ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে বিনামূল্যে আবেদন।

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের উপজেলা পর্যায়ের সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন অর্থায়ন কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’র আওতায় প্রতিটি উপজেলায় ১০ জন করে তরুণ উদ্যোক্তাকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার অর্থায়ন ও অনুদান দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আটটি জেলার ৬৪টি উপজেলায় এ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। এসব উপজেলা থেকে মোট ৬৪০ জন তরুণ উদ্যোক্তা নির্বাচিত হবেন। ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচিটি দেশের অন্যান্য জেলায় সম্প্রসারিত করা হবে। প্রতিবছর প্রায় পাঁচ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে অর্থায়ন ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নির্বাচিত উদ্যোক্তারা তাদের প্রকৃত ব্যবসায়িক চাহিদা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার অর্থায়ন-অনুদান প্যাকেজ পাবেন। এর অর্ধেক অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা হবে ব্যাংকঋণ এবং বাকি অর্ধেক হবে অনুদান। গ্রাহক পর্যায়ে সুদ বা মুনাফার হার থাকবে সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৭ শতাংশ। এ ঋণের জন্য কোনো সহায়ক জামানতের প্রয়োজন হবে না।

তবে নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনুদানের অংশ সুদবিহীন ঋণে রূপান্তরিত হবে। সেক্ষেত্রে ঋণ হিসাবটি প্রচলিত ব্যাংকিং নিয়মে শ্রেণিকৃত হবে এবং সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতা খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবেন। ফলে পরবর্তীকালে তিনি নতুন ঋণ পাওয়ার যোগ্যতাও হারাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, এটি প্রচলিত অর্থে কোনো প্রতিযোগিতা নয়। ব্যাংকগুলো তাদের বিদ্যমান শাখার মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান ও চিহ্নিত করবে। উদ্যোক্তার ব্যবসায়িক ধারণা, উদ্যোগের সম্ভাবনা এবং প্রকৃত অর্থের চাহিদা যাচাই করে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কর্মসূচিতে আবেদনের জন্য আবেদনের শেষ তারিখে বয়স ২৮ বছর বা তার কম হতে হবে। বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দারা আবেদন করতে পারবেন। আগে থেকে ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক ধারণা থাকলেই আবেদন করা যাবে।

কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা খাত কিংবা প্রযুক্তিভিত্তিক—সব ধরনের বৈধ উদ্যোগ এ কর্মসূচির আওতায় বিবেচিত হবে। অর্থাৎ নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসার ধরন নয়, উদ্যোগের বাস্তবতা ও সম্ভাবনাকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করা হবে। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত ফরমের মাধ্যমে বিনা মূল্যে আবেদন করা যাবে। আবেদন গ্রহণের সময়সীমা থাকবে পরবর্তী এক মাস।

প্রাথমিকভাবে যে আটটি জেলায় কর্মসূচি শুরু হচ্ছে সেগুলো হলো—মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনা। এসব জেলার ৬৪টি উপজেলা থেকে প্রথম ধাপে ৬৪০ জন তরুণ উদ্যোক্তা নির্বাচিত হবেন।

অর্থায়নের পাশাপাশি নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তারা উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ পরামর্শকের ধারাবাহিক পরামর্শ, ব্যবসা নিবন্ধনে সহায়তা, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়নে সহযোগিতা এবং বাজারসংযোগের সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তাদের শুধু অর্থায়ন নয়, ব্যবসা শুরু থেকে পরিচালনা ও বাজার সম্প্রসারণ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ধারণা, একজন সফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা গড়ে তিন থেকে পাঁচজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন। সে হিসাবে উপজেলা পর্যায়ে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।