মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি

২৫৫ ভোটে জয়ী মির্জা ফখরুল; শুক্রবার বঙ্গভবনে শপথ, রাষ্ট্রপতি পদে বসার সঙ্গে ছাড়বেন মহাসচিব ও মন্ত্রিত্বসহ তিন পদ।
নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করেন। এর পর সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে সংসদ সদস্যদের উন্মুক্ত ভোটে তিনি জয়লাভ করেন।
এবারের নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুলের জয় প্রায় নিশ্চিত ছিল। মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ভোটার ছিলেন।
গত বছর পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৪ জুলাই সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করেন। এর পর সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।
১৯৯১ সালের পর এটিই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। সেবার বিএনপির আব্দুর রহমান বিশ্বাস আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করেছিলেন। এর পরের সব নির্বাচনই ছিল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৩ আগস্ট মির্জা ফখরুলকে দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেন। মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর পদ এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য পদও শূন্য হবে শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ শুরু হয় এবং বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে। প্রথম ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং প্রার্থী মির্জা ফখরুল নিজেও ভোট দেন।
ভোট গণনার পর মির্জা ফখরুল ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী ঘোষিত হন। নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করবে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি শপথ গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে। শপথবাক্য পাঠ করাবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান হন। ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে কৃষি ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১১ সাল থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সাল থেকে স্থায়ী মহাসচিব হিসেবে দলের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন তিনি। খালেদা জিয়ার কারাবাস এবং তারেক রহমানের প্রবাসে থাকাকালীন সময়ে দলকে পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে জয়ী হয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
নির্বাচনের আগে তিনি বলেছিলেন, “আমি কখনো ভাবিনি যে রাষ্ট্রপতি হব। এটা দলের এবং মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি। রাষ্ট্রপতি হলেও আমার ইচ্ছে আছে, আমি জনগণের পাশে থেকে সেবা করব।”মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকারের সাংবিধানিক কাঠামো পূর্ণতা পাচ্ছে। তাঁর শপথ গ্রহণের পর দলের মহাসচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য হবে, যার উত্তরসূরি নির্ধারণে দলে আলোচনা চলছে।







