রোহিঙ্গা সংকট পরিবেশ ধ্বংস, মাদক পাচার ও অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে: সেনাপ্রধান

পরিবেশ ধ্বংস, মাদক পাচার ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ; বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রোহিঙ্গাদের উপস্থিতি বড় চাপ সৃষ্টি করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক: রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি বাংলাদেশের পরিবেশ, অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মাদক পাচার, চোরাচালান ও বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম সংঘটিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে দীর্ঘ সময় আশ্রয় দেওয়ার কারণে দেশের অর্থনীতিতে তৈরি হয়েছে উল্লেখযোগ্য চাপ।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মিরপুর সেনানিবাসের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে তিন সপ্তাহব্যাপী ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/২’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় সেনাপ্রধান এসব কথা বলেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, “আপনারা দেখেছেন রোহিঙ্গা ইস্যু আমাদের কীভাবে প্রভাবিত করছে। ওই এলাকার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে শুরু করে অর্থনীতিতে বিপুল চাপ, মাদক পাচার, চোরাচালান এবং নানা ধরনের অপকর্ম সেখানে ঘটছে।”

সেনাপ্রধানের বক্তব্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা সংকট এখন কেবল মানবিক বা নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় পরিবেশের ক্ষতি, মাদক পাচার ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

দেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ

আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ক্যাপস্টোন কোর্সে আলোচিত দেশের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন সেনাপ্রধান। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা, পার্বত্য চট্টগ্রামের অভ্যন্তরীণ সংঘাত এবং জ্বালানি সংকটের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, “এগুলো একদিনে সমাধান হবে না।” এসব সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন খাতের মানুষের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ভাগ করে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। দেশের স্বার্থে আল্লাহপ্রদত্ত জ্ঞান ও প্রজ্ঞাকে কাজে লাগিয়ে দেশসেবায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান সেনাপ্রধান।

ক্যাপস্টোন কোর্সের সমাপনী

অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান তিন সপ্তাহব্যাপী ক্যাপস্টোন কোর্সে অংশ নেওয়া ফেলোদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন। এবারের ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/২’-এ সামরিক কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক, সাংবাদিক এবং করপোরেট প্রতিনিধিসহ মোট ৩৭ জন অংশগ্রহণ করেন।

কোর্সটিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় চ্যালেঞ্জ ও কৌশলগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে রোহিঙ্গা সংকট, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা, পার্বত্য চট্টগ্রামের অভ্যন্তরীণ সংঘাত এবং জ্বালানি সংকট অন্যতম।

দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

সেনাপ্রধানের বক্তব্যে রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের শরণার্থী শিবিরগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার অবস্থানের কারণে পরিবেশগত ক্ষতি, মাদক পাচারের রুট হিসেবে ওই অঞ্চল ব্যবহারের অভিযোগ এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টির বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে।

দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক দিকের পাশাপাশি পরিবেশ, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর এর প্রভাব মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথাই সেনাপ্রধানের বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে।