পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে হবিগঞ্জের পথে এনসিপির শীর্ষ নেতারা

শ্রীমঙ্গলে ঘণ্টাব্যাপী উত্তেজনার পর রওনা, হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি

টুইট ডেস্ক: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রায় পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে রওনা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। হবিগঞ্জের পথে এগোলেও ১৪৪ ধারার মধ্যে কর্মসূচি কীভাবে পালন করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেতাদের পৌঁছানোর পর নেওয়া হবে বলে দলের মিডিয়া উপকমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল চারটার দিকে শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও এলাকায় চা-কন্যা ভাস্কর্যের সামনে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে পুলিশ তাদের গাড়িবহর আটকে দেয়। ঘণ্টাখানেক বাগবিতণ্ডার পর বিকেল পাঁচটার দিকে ব্যারিকেড অতিক্রম করে তাঁরা হবিগঞ্জের পথে যাত্রা শুরু করেন। হবিগঞ্জে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে তাঁদের।

গাড়িবহরে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, জাতীয় নারী শক্তির সদস্যসচিব মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

ব্যারিকেডের সামনে পুলিশের সঙ্গে তর্কের একপর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ এক পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে বলেন, “নিরাপত্তার জন্য থ্রেট (হুমকি) কারা? নিরাপত্তার থ্রেট কারা? আপনি তাদের না ধরে, আমাদের রাস্তা আটকাচ্ছেন? আপনি হবিগঞ্জে হচ্ছে ১৪৪ ধারা দিসেন, শ্রীমঙ্গলের রাস্তা আটকাচ্ছেন? আপনি আনলফুল (বেআইনি) কাজ করতেসেন। তাহলে আপনি আবার কথা বলতেসেন কেন? আপনি আইনের লোক না, আপনি আইনের লোক তো? বলেন কোন আইনে আপনি আমাকে এখানে বাধা দিচ্ছেন?”

পুলিশের একজনকে বলতে শোনা যায়, তাঁদের সীমানা পাড় হলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। জবাবে হাসনাত বলেন, “ক্ষতি হতে পারে, ক্ষতি হতে পারে। তাইলে আপনি যদি পারেন সিকিউরিটি দিবেন, যদি না পারেন তাহলে আমরা আমাদের দায়িত্ব নিয়ে চলে যাব।”

সারজিস আলম বলেন, “বিএনপি সরকার, তারা এখন সরকারকে দিয়ে প্রশাসনকে আবার আওয়ামী লীগের মতো ব্যবহার করবে। ওয়ান ফোরটিফোরের (১৪৪ ধারা) ধারে কাছেও যাইনি, আমাদেরকে আটকায়ে দিসে।”
এনসিপির নেতাদের অভিযোগ, হবিগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রাকালে পুলিশ তাঁদের সামনে এগোতে নিরুৎসাহিত করে। তখন নেতা-কর্মীদের গাড়িবহর চা-কন্যা ভাস্কর্যের সামনেই অবস্থান নেয়।

এর আগে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। কোর্ট মসজিদ এলাকায় স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ করে এনসিপি। এতে সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। একপর্যায়ে সারজিস আলমকে সোনালী ব্যাংকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। রাত আটটার দিকে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। সাংবাদিকদের গাড়ি ভাঙচুর ও ক্যামেরা-মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এনসিপি বিএনপি-ছাত্রদলকে দায়ী করেছে। ছাত্রদল দাবি করেছে, এনসিপির বক্তব্যে উসকানি ছিল।

এই হামলার প্রতিবাদে আজ বুধবার বিকেল তিনটায় হবিগঞ্জ পৌর শহরে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় এনসিপি। একই সময়ে পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দেয় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল ও বিএনপির স্থানীয় শাখা। দুই পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে। পরে এনসিপি সেখানে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তারা পুলিশের সঙ্গে একযোগে কাজ করছে এবং ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালাচ্ছে।

পুলিশের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল হক জানিয়েছেন, পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে এবং মাঠে বিজিবি ও ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।

এনসিপির নেতারা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে হবিগঞ্জের পথে এগোলেও ১৪৪ ধারার মধ্যে কর্মসূচি কীভাবে পালন করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেতাদের পৌঁছানোর পর নেওয়া হবে বলে দলের মিডিয়া উপকমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন।