জোড়া গোলে ব্রাজিলকে বিদায়: প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে

গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর শেষ ১১ মিনিটে হালান্ডের ঝড়; পেনাল্টি ঠেকিয়ে নায়ক গোলরক্ষক নাইল্যান্ড, ১৯৯০ সালের পর প্রথমবার শেষ ষোলো থেকেই বিদায় ব্রাজিলের।

খেলা ডেস্ক: আর্লিং হালান্ডের দুর্দান্ত জোড়া গোলে ফুটবল বিশ্বে বড় অঘটনের জন্ম দিল নরওয়ে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি। একই সঙ্গে ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের শেষ আটে উঠতে ব্যর্থ হলো ব্রাজিল।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে নরওয়ে। ম্যাচের মাত্র তৃতীয় মিনিটেই প্যাট্রিক বার্গ বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ব্রাজিল এবং একের পর এক আক্রমণে নরওয়ের রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে।

১৪ মিনিটে পেনাল্টি পেয়ে সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছিল সেলেসাওরা। কিন্তু ব্রুনো গুইমারেসের নেওয়া স্পট কিক অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান (ওরলান) নাইল্যান্ড। সেই সেভই ম্যাচের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট হয়ে ওঠে। প্রথমার্ধে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি ও গুইমারেসের আরও কয়েকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পর ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি আক্রমণভাগে পরিবর্তন এনে এনড্রিককে মাঠে নামান। তাতে আক্রমণের গতি বাড়লেও নরওয়ের রক্ষণ এবং নাইল্যান্ডের দৃঢ়তায় গোলের দেখা পায়নি ব্রাজিল। ধৈর্য ধরে সুযোগের অপেক্ষায় থাকা নরওয়ে শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটি পায় ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে। আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের তৈরি করা আক্রমণ থেকে হেডে জাল খুঁজে নেন আর্লিং হালান্ড।

গোল হজমের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আরও বড় আঘাত হানে নরওয়ে। নির্ধারিত সময়ের ৯০তম মিনিটে দূরপাল্লার জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের দ্বিতীয় গোল করেন হালান্ড। দুই গোলে এগিয়ে গিয়ে জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলে নরওয়ে।

যোগ করা সময়ের শেষ দিকে ক্যাসেমিরোর ফাউলে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। স্পট কিক থেকে গোল করে ব্যবধান কমান নেইমার। তবে শেষ বাঁশি বাজার আগেই আর সমতায় ফিরতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২-১ ব্যবধানের ঐতিহাসিক জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।

এই জোড়া গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে হালান্ডের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতে। তিনি এখন সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন। অন্যদিকে গোলের পাশাপাশি পেনাল্টি ঠেকিয়ে ও একাধিক নিশ্চিত সুযোগ রুখে দিয়ে নরওয়ের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন গোলরক্ষক নাইল্যান্ড।

এই পরাজয়ে ব্রাজিলের দীর্ঘদিনের শিরোপা-অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো। ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ জিততে না পারা সেলেসাওদের জন্য এটি আরেকটি হতাশাজনক অধ্যায়। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ব্যর্থতার ধারাও অব্যাহত থাকল। ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় নেইমার জাতীয় দলের ক্যারিয়ারের সমাপ্তির ইঙ্গিত দেন, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি।

ঐতিহাসিক এই জয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে নরওয়ে। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড। হালান্ডের দুর্দান্ত ফর্ম, স্টেলে সোলবাকেনের কৌশলী পরিকল্পনা এবং পুরো দলের শৃঙ্খলাবদ্ধ পারফরম্যান্সে এখন বিশ্বকাপের অন্যতম চমক হয়ে উঠেছে নরওয়ে।